২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন তাবিথ আউয়াল; ভদ্রলোক বর্তমানে বাফুফে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ভুলে ভরা, দূর্নীতি ঘেরা সালাউদ্দিন আমলেও বাফুফে’তে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা তাবিথ আউয়াল যখন জুলাই পরবর্তী বাফুফে সভাপতি হলেন; ধারণা করা যাচ্ছিলো পুরো ফেডারেশনেই একটা বড়সড় পরিবর্তন নিয়ে আসবেন। বাফুফের গুরুত্বপূর্ণ যে কমিটি, টেকনিক্যাল কমিটি, সেখানে ধারণা করা হয়েছিলো বড় চমক থাকবে। চমক না হোক, সালাউদ্দিন আমল থেকে কার্যকরী ও শক্তিশালী হবে।
কিন্তু, দেখা গেলো এরচেয়ে আরোও কয়েকগুন খারাপ হয়েছে। বর্তমান বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটিতে যারা রয়েছেন, তাদের মধ্যে থেকে ফুটবলের সাথে জড়িত ছিলেন এমন মানুষের সংখ্যা মাত্র তিন জন! বাকিদের সবাই ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ কিংবা অন্য কোনো নন-টেকনিক্যাল পেশার সাথে জড়িত!
এই লেখার শিরোনাম ‘চাঁদের আলোয় কয়েজন নীল মানুষ’ এর সাথে গল্পের জাদুকর হুমায়ুন আহমেদের ভিন্ন দুটি উপন্যাস ‘চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক’ ও ‘নীল মানুষ’ এর চরিত্রদের কোনো মিল নেই। তবে চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক উপন্যাসটি যেভাবে আনন্দময় গল্প থেকে মোড় নিয়ে একটি রহস্যময় পথে হেঁটেছে, এই লেখাটিও ঠিক তাই। উপন্যাসে এমন এক জোছনার কথা বলা হয়েছে, যার মায়াবী আলোয় সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বলে ভ্রম তৈরি হয়। আজকের লেখায় আপনারা জানবেন কিভাবে কিছু মানুষ এই সময়ে এসেও সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য ভ্রম করে একটা দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের চেয়ারে বসে দেশের মানুষের সাথে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করে যাচ্ছে। তাদেরকে আমি কুৎসিত অর্থে ‘নীল মানুষ’ নাম দিলাম।
বাফুফের বর্তমান টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য সংখ্যা ১১ জন। অথচ খোদ বাফুফের গঠনতন্ত্র বলছে এই কমিটির সদস্য সংখ্যা হবে ৯ জনের! গঠনতন্ত্রের ৪৬ ধারায় বলা আছে একজন চেয়ারম্যান, একজন ডেপুটি চেয়ারম্যান ও ৭ জন সদস্য থাকার কথা। এই নিয়ম না মেনেই ১১ জনের টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাও আবার ডেপুটি চেয়ারম্যান ছাড়াই! এখন প্রশ্ন হলো, একটা দেশের ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল কমিটিতে থাকা লোকদেরই যদি ফুটবল জ্ঞান না থাকে, তাহলে তারা দেশের ফুটবলকে কি দিতে পারবে, ফুটবলের উন্নয়নে ও কোচিং কোর্স কারিকুলামের বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত দিবে?
এই টেকনিক্যাল কমিটির কয়েকজনকে পরিচয় করিয়ে দেই- জনাব মুশফিকুর রহমান, পেশায় একজন ব্যাংকার। সাউথইষ্ট পিএলসি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে পদায়িত আছেন। বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটিতে তার কাজ কি? এই প্রশ্ন আমি বাফুফেরই একজনকে করেছিলাম; তিনি বলেছেন টেকনিক্যাল কমিটি পুরোটাই চলে কোর্স বিক্রি করে। অর্থাৎ, কোর্স বিক্রি, রেজিস্ট্রেশন বাবদ যে টাকাপয়সা বাফুফেতে আসে, তার সঠিক হিসাব ও স্বচ্ছতা রাখতে নাকি তাকে এই কমিটিতে রাখা হয়েছে! কোর্স বিক্রির টাকার হিসাব রাখতে একটা ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট?
খেলাধুলার বাইরে অবশ্য মুশফিক সাহেবের বেশ নাম আছে। সেটা সু-নাম নাকি দুর্নাম তা পাঠকেরাই বিচার করবেন। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একটি ব্যাংক হিসেবে সাউথইস্ট ব্যাংকের নামডাক আছে। চেয়ারম্যান পদে বসে ব্যাংকটি দখল করে আছেন
এম এ কাসেম। আর ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মুশফিকুর রহমান হচ্ছেন তারই সম্পর্কে ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ‘ভাগ্নি জামাই!’ সিন্ডিকেট করে জামাই- শ্বশুর মিলে পুরো একটা ব্যাংক দখল করে বসে আছেন, এটা জেনেও কেউ কিছুই করতে পারছেনা।
অন্যদিকে চেয়ারম্যান এম এ কাসেমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন বর্তমানে অনুসন্ধান করছে।
আরেকজন সদস্য ফিরোজা করিম নেলি। পেশায় একজন প্রকৌশলী। ফুটবলের সাথে সম্পর্ক দূরে থাক- দেশ ও দশের সাথেও এই মহিলার কোনো সম্পর্ক নাই। অনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যোগ্যতা ছাড়াই ভাগিয়ে নিয়েছিলেন এলজিইডি মন্ত্রনায়লয়ে চাকরি; সরকার পালালেও বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আবারো প্রমোশন নিয়েছেন প্রধান প্রকৌশলীর অনুকম্পায়। কাজী সালাউদ্দিন আমলে মহিলা ক্রীড়া সংস্থায় ঢুকা নেলি বর্তমানে বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য! তাকে নিয়ে আমি বিস্তারিত লিখেছি আমার ওয়েভসাইটে; কমেন্টে লিংক দিয়ে দিবো পড়ে নিতে পারেন।
বর্তমান টেকনিক্যাল কমিটির একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হচ্ছেন হুমায়ুন কবির চৌধুরি। নোয়াখালী থেকে উঠে আসা এই ভদ্রলোক ফুলটাইম ব্যবসায়ী ও পার্টটাইম রাজনীতিবিদ। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে একসময়ের সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী, ও পরে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে এলাকায় ও ব্যবসায়ী মহলে তার বেশ সুনাম ছিলো। হুমায়ুন কবির বাফুফেতে ঢুকেছিলেন কাজী সালাউদ্দিন আমলে। আওয়ামীলীগ ও ওবায়দুল কাদের এর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে, পাশাপাশি নোফেল স্পোর্টস ক্লাবের সাথে সংশ্লিষ্টতা দেখিয়ে। জুলাই পটপরিবর্তনের পর হুমায়ুন কবির নোফেল ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদটি ভাগিয়ে নিয়েছেন এক অদৃশ্য শক্তিবলে।
তাকে নিয়ে আরেকটি অ-গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা প্রয়োজন।
‘আদম পাচার চক্রের নেতৃত্বে বাফুফের এক নির্বাহী’ শিরোনামে দেশের শীর্ষস্থানীয় সকল পেপার-পত্রিকায় খবর ছাপা হয়েছিলো কয়েক মাস আগে। খবরটি শুধুই গুঞ্জন ছিলোনা- তার ষোল আনাই ছিলো সত্য। আমার ব্যক্তিগত অনুসন্ধান বলছে- বাফুফে কর্মকর্তা (নারী উইংয়ের নির্বাহী) তৌহিদুল আলমের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ায় আদম পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠার প্রেক্ষিতে বাফুফে জরুরিভাবে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তৌহিদুলকে শোকজ পাঠায় চিঠিতে। তদন্ত কমিটিতে ছিলেন বাফুফের এইচআর ও প্রশাসন বিভাগের আহসানুর রহমান রবিন এবং লিগ্যাল বিভাগের তাসনুভা তাবাসসুম মহিমা চৌধুরী।
অনুসন্ধান বলছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারী নারী দল্রর এশিয়ান গেমসকে লক্ষ্য করে এই পাচারের চেষ্টা চালানো হয়; এর নেতৃত্বে ছিলেন তৌহিদুল এবং তার সহকারী ছিলেন টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যে হুমায়ুন কবির ও তার সহযোগী আরাফাত হোসেন। মতিঝিলের কমলাপুর বাজার রোডে ‘সাগুফতা ডি লরেন্স’ নামে একটি অফিস খুলে সেখানেই এই মানবপাচারের ছক কষেন তৌহিদ; তাকে সব ধরণের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীক সাপোর্ট দিয়ে আসছিলেন হুমায়ুন কবির!
হুমায়ুন কবিরের পাল্লায় পড়া একজন ভুক্তভোগীর নাম সাজেদুল ইসলাম। ৪ জনের পাসপোর্ট বাবদ হুমায়ুন-আরাফাতের সাথে ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা লেনদেন করেন সাজেদ। কিন্তু কেউই ভিসা না পাওয়ায় সাজেদ টাকা ব্যক চাইলে তাকে গু’ম করে ফেলার হুমকি দেন হুমায়ুন, তার কিছুদিন পরই তিনি গা ঢাকা দেন। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন কেউ জানেনা, তবে টেকনিক্যাল কমিটিতে ঠিকই তার পদ বহাল আছে।
এবার ইয়াকুব আলীর কথা বলা যাক।
পেশায় ব্যবসায়ী এই ভদ্রলোক আরামবাগ ক্রীড়া সংস্থার সাথে জড়িত। জড়িত বলতে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সহ-সভাপতি পদে আছেন। মিডিয়ায় তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় ফুটবল সংগঠক হিসেবে। অথচ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ ছাড়া আরামবাগ ক্রীড়া সংস্থায়ও তার বিশেষ গুরুত্ব নেই। তাছাড়া ক্যাসিনো কান্ডে তার নামও জড়িয়েছিলো একবার; বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একদম ব্লাকআউটে চলে গিয়েছিলো তার অস্তিত্ব। কিন্ত তিনি ফিরে এসে আরামবাগ ক্রীড়া চক্রের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসান ইয়াকুব আলী।
ইয়াকুব আলী যখন ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন, ক্লাবটি এক লজ্জাজনক পরিস্থিতির জন্ম দেয়। ২০২০ সালে জানুয়ারিতে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের প্রথম দিকে আরামবাগ তিনটি ম্যাচে লাইভ বেটিং ও স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়েছে বলে অভিযোগ পায় এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। ম্যাচগুলো ছিল মোহামেডান, ঢাকা আবাহনী ও শেখ রাসেলের বিপক্ষে। পরে বাফুফের ডিসিপ্লিনারি কমিটি আরামবাগের বিরুদ্ধে লাইভ বেটিং, স্পট ফিক্সিং, ম্যাচ গড়াপেটা ও অনলাইনে বেটিংয়ের সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে। এর ভিত্তিতে ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট ক্লাবটির কর্মকর্তা ও দেশি-বিদেশি ১৪ জন খেলোয়াড়কে বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধ করা হয়।
ম্যাচ পাতানো কলঙ্কের আগে ২০১৯ সালে ক্যাসিনো–বিরোধী অভিযানে আরামবাগ ক্লাবও সিলগালা করা হয়েছিল। এতোসব কুৎসিত কর্মকান্ডের পরও একজন ফুটবল সংগঠক পরিচয়ে ইয়াকুব আলী বাফুফে’তে দিনের পর দিন শুধু নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত ই করেন নি, বরং তাকে তাবিথ আউয়াল জায়গা দিয়েছেন টেকনিক্যাল কমিটিতে!
কমিটির আরেক গুরুত্বপূর্ণ (!) চরিত্রের দিকে নজর দেয়া যাক। নাম জোবায়ের ইউসুফ। পেশায় শিক্ষক। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে তিনি শিক্ষকতা করান; সাব্জেক্ট ‘ক্রীড়া শিক্ষক’। অর্থ্যাৎ, দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া প্রতিষ্টান ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল কমিটিতে স্থান পেয়েছেন একটি স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক!
রোভার স্কাউট ও পিটি করানো ছাড়া যার কোনো কাজই নাই স্কুলে- তিনি বর্তমানে নিয়োজিত আছেন বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটিতে!
একজন পিটি শিক্ষকের কি যোগ্যতা আছে বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটিতে স্থান পাওয়ার- এ প্রশ্নের উত্তর কারো আছে কিনা জানা নেই। তাকে বাফুফে’তে কেনই বা নিয়ে আসা হয়েছে, এই প্রশ্নের উত্তর কারো নেই।
ব্যবসায়ী পরিচয়ে বাফুফে’তে ঢুকে বর্তমানে টেকনিক্যাল কমিটিতে আছেন মশিউর রহমান বিপ্লব। ফেনির এই ভদ্রলোক নামে ব্যবসায়ী, কাজে রাজনীতিবিদ। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে আছেন। ফুটবল দূরে থাক, কোনো ধরণের খেলাধুলার সাথেই তার কোনো সম্পর্ক নেই। তবু শুধুমাত্র তাবিথ আউয়ালের ব্যক্তিগত ইচ্ছায় এই রাজনীতিবিদ জায়গা পেয়েছেন বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটিতে।
অথচ, মশিউর রহমান বিপ্লব কাজী সালাউদ্দিন এর আমলেও বাফুফে’তে ছিলেন। ভিন্ন পরিচয়ে। তখন ঢাকার স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
এইসব লোকদের ফিরিস্তি সারাদিন দেয়া যাবে, লেখা যাবে শত শত পাতা। তবে তারা ফুটবলের সাথে কোনোভাবে জড়িত না থেকেও কিভাবে ফেডারেশনের গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে আছেন, এই প্রশ্নের উত্তর সবারই অজানা।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের হেড কোচ নির্ধারনী কমিটি পরিচালনা করেছেন সাইফুল বারী টিটু। যে কমিটি শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে।
শুধু ব্যর্থ-ই না এই কমিটি বাংলাদেশের মানুষের সাথে রীতিমতো প্রতারণা করেছে। কালক্ষেপণ করে রোজারিও মিকেলের মতো কোচকে হাতছাড়া করেছে, কোলম্যানকে এজেন্ট ফি’ দোহাই দিয়ে তাড়িয়েছে। বার্ন্ড স্টর্ক কিংবা দিদিয়ের নিকোল, পিটার সেগর্ট এর মতো কোচকেও হারিয়েছি তাদের কারণেই।
দু’দিন চারদিন পর লিস্ট পাব্লিশ করবে বলে দেশের মানুষের সাথে বেইমানি করে শুধু পারই পায়নি; তারা এখনো থমাস ডুলিকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পিছনে কোনো এক্সপ্লেনেশন পর্যন্ত দেয়নি।
পুরো কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় টিটুর সাথে কমিটিতে ছিলেন আরোও ৩ জন;
১) সাইদ হাসান কানন,
২) ইকবাল হোসেন ও
৩) কামরুল হাসান হিল্টন।
এই ৩ জন বাফুফের বিভিন্ন কমিটিতে আছেন। হিল্টন টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান, ইকবাল হোসেন কম্পিটিশন কমিটিতে ও সাইদ হাসান কানন ডেভেলপমেন্ট কমিটিতে।
তাদের সবাইকে নাটাইয়ের সুতোর মতো আকাশে উড়াতে আছেন সাইফুল বারী টিটু। বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে তার মূল কাজটা কি, সেটা নাকি খোদ বাফুফের কর্মকর্তারাই জানেন না।
কখনো কোর্স বিক্রি, কখনো কোচিং লাইসেন্স বিক্রি, কখনো নারী দলের কোচ, কখনো যুব দলের কোচ। আবার কখনোওবা রেফারিদের কোচ, কখনো কখনো কোচদেরও কোচিং করান সাইফুল বারী টিটু।
ফুটবল ফেডারেশনের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে বসে সাইফুল বারী টিটু এখন পর্যন্ত কি টেকনিক্যাল সিদ্ধান্ত বাফুফেকে দিয়েছেন তা জানতে ইচ্ছে হয়। তাছাড়া যেসব জায়গায় বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে সেগুলোর দায়ভার নিয়েছেন কখনো তিনি?
রুট লেভেলের খেলোয়াড় তৈরি ও তরুণ প্রতিভা বের করে নিয়ে যার কাজ, সেই তিনি কিনা প্রতিভাবান তরুণ প্রবাসী খেলোয়াড় দেখলেই দূরে তাড়িয়ে দেন। আরহাম ইসলাম যেন তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।
আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি- জাতীয় দলে জায়গা করে দেয়ার জন্য এক ফুটবলারের বাবার কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ ও এক লক্ষ টাকা উপঢৌকন হিসেবে নিয়েছেন টিটু! ওই ফুটবলারের নাম আমি প্রকাশ করবোনা, কারণ তার বাংলাদেশে একটা লম্বা সময়ের ক্যারিয়ার আছে। এবং সে যথেষ্ট ভালো একজন ফুটবলার।
কোচিং সার্টিফিকেট বিক্রি, কোর্স বিক্রি কিংবা বয়সভিত্তিক দলে হোক, জাতীয় দলে হোক- খেলোয়াড়দের জায়গা নিশ্চিত করে দেয়ার জন্য আপনাকে ঘুরেফিরে যেভাবেই হোক সাইফুল বারী টিটুর কাছেই যেতে হবে। টিটু যেন এখন এক অদৃশ্য এক শক্তি, যার বিরুদ্ধে লড়ার করার সাহস খোদ বাফুফে সভাপতিরও নাই।
হামজা- শমিতদের নিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ এক নতুন সম্ভাবনার দিকে এগুচ্ছে। এই সোনালি সময়েও টিটুর মতো লোকেরা ফেডারেশনে থেকে লাভের লাভ কিছুই হচ্ছেনা, বরং সামনে আগানোর পরিবর্তে শুধুই পিছিয়ে যাচ্ছে।
সাইফুল বারী টিটু বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের পদ থেকে পদত্যাগ চাই, তাছাড়া তার সকল সাঙ্গপাঙ্গরাও যেন পদত্যাগ করে। পদত্যাগ না করলে তাদেরকে বাফুফে থেকে বহিষ্কার করা হোক।
এবং কোচ নিয়োগে ভয়াবহ জালিয়াতি, অপেশাদারিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগে টিটু গংদের বিরুদ্ধে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করার দাবি জানাচ্ছি। এবারের মতো ঘটনা আগামী এড়াতে হলে এদের কোচ-নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে জবাবদিহিতার শতভাগ প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি।
সর্বোপরি, সাইফুল বারী টিটু ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বাফুফে’তে আজীবনের জন্য যারা রেখে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য বাংলাদেশী ফুটবল ভক্তরা কঠিন বার্তা নিয়ে অপেক্ষা করছে; সিন্ডিকেট ও অপেশাদারিত্বের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সবসময় জিরো টলারেন্স থাকবে..
বাফুফের প্রতি অনুরোধ, লেখাটি আপনাদের চোখে পড়লে দয়া করে আমাদের প্রতি মেহেরবানি করেন; এইসব নীল মানুষদের টেকনিক্যাল কমিটি থেকে সরিয়ে যোগ্য মানুষদের কমিটিতে নিয়োগ দেন।
এই কমিটির মেয়াদ অবশ্য ৬ মাস আগেই পেরিয়ে গেছে, তবু তারা পড়ে আছেন। নতুন করে কমিটি দেয়ার কথা কামরুল হাসান হিল্টনের, তিনি কেন এতোদিনেও দিলেন না, এই প্রশ্ন রেখে গেলাম..
বাংলাদেশ ফুটবল ব্যবসায়ীক, রাজনৈতিক ও কর্পোরেট সিন্ডিকেট মুক্ত হোক- বাংলাদেশ ফুটবল দীর্ঘজীবী হোক।
- আহমদ আতিকুজ্জামান
