মোনেম মুন্না’কে মনে পড়ে!

💔 হি ওয়াজ মিসটেকেইনলি বর্ন ইন বাংলাদেশ’- মোনেম মুন্না সম্পর্কে এ কথাটি বলেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক জার্মান কোচ অটো ফিস্টার।

সেই অটো ফিস্টার, যিনি ঘানাকে বিশ্ব যুব কাপের শিরোপা এনে দিয়েছিলেন, সেই ফিস্টার যিনি আফ্রিকার দারিদ্র্যপীড়িত দেশ টোগোকে বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্তপর্বে নিয়ে গিয়েছিলেন।

আজ মুন্নার জন্মদিন। পেরিয়ে যাচ্ছে বিস্মৃতির চাদর গায়ে পরেই, অনেকটা নীরবে!

আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের ফুটবলে মুন্নার উত্থান। সালটা ১৯৮৪। প্রথম দুই মৌসুম মুক্তিযোদ্ধায়। এরপর এক মৌসুম ব্রাদার্স ইউনিয়নে। ১৯৮৭ সালে তিনি যোগ দেন আকাশি নীল জার্সিধারী আবাহনী শিবিরে। দেশের ফুটবলের অন্যতম জায়ান্টেই তিনি পার করে দেন তাঁর পুরো ফুটবল ক্যারিয়ার। তিনি ছিলেন আকাশচুম্বী জনপ্রিয় এক ফুটবলার। ১৯৯১ মৌসুমের দলবদলে তিনি আবাহনীতে খেলেছিলেন ওই সময়ের বিচারে অকল্পনীয় ২০ লাখ টাকা পারিশ্রমিকে, যা অনেক দিন পর্যন্ত বাংলাদেশেই শুধু নয়, গোটা উপমহাদেশেই ছিল এক অনন্য রেকর্ড, অভাবনীয় এক ঘটনা।

জাতীয় দলের অধিনায়ক তিনি হয়েছেন একাধিকবার। ১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমস দিয়ে তিনি গায়ে জড়িয়েছিলেন জাতীয় দলের গর্বের জার্সি। এরপর দু-একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে তিনি জাতীয় দলে খেলেছেন টানা ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত। ১৯৯০ সালে বেইজিং এশিয়ান গেমসে তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড হাতে পরেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ মিয়ানমারে চার জাতি প্রতিযোগিতার শিরোপা জয় করেছিল। ওটাই ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রথম কোনো শিরোপা।

ক্রিকেট এ দেশে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠার আগে অর্থাত্ নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মোনেম মুন্না নামটি এদেশের করপোরেট বাণিজ্যেরও অন্যতম উপাদান হিসেবে ব্যবহূত হয়েছে। ১৯৯৬ সালে মুন্নাকে ব্র্যান্ড প্রতিনিধি বানিয়ে সম্মানিত করেছিল বিশ্বখ্যাত প্রসাধনী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার।

কিডনির জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মোনেম মুন্না এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন ২০০৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি।

হাজমার যে ক্রেজ আজ বাংলার ফুটবলে, মুন্নার ক্রেজ কোনো অংশেই কম ছিলোনা সে সময়ে। মুন্না ছিলেন অখ্যাত দেশের বিখ্যাত ফুটবলার- যিনি জন্ম নিয়েছিলেন ভুল সময়ে!

✍️ আহমদ আতিকুজ্জামান

জনপ্রিয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *