দ্যা এলিট : সামিদ কাশেম!

এক পর্যায়ে কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলেন রুপু। 

ঠিক বাকবিতন্ডায় জড়ালেন না, কিন্তু তার কন্ঠে স্পষ্টই ক্ষোভ প্রকাশ পেলো। বাফুফে ভবনের এই কক্ষটি এর আগেও বহুবার গর্জিত হয়েছে। কিন্তু আজকের এই মূহুর্তটির জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না সত্যজিৎ দাশ রুপু। 

কাজী সালাউদ্দিন আমলে সত্যজিৎ রুপু ছিলেন বাফুফের অঘোষিত ‘কিংসম্যান।’ দেশের বাইরে কোথাও জাতীয় ফুটবল দল কিংবা অনুর্ধ যেকোনো দল খেলতে গেলে কোনো ধরণের আপোষ ছাড়াই রুপু পেয়ে যেতেন টিম ম্যানেজারের দায়িত্ব। কোনো কথাবার্তা নেই, আলোচনা নেই। টিম যেখানে, রুপুও সেখানে। প্রতি সফর অনুযায়ী রুপুর পকেটে ‘অফিসিয়াল এলাউন্স’ হিসেবে ঢুকতো পাঁচশো’টি ডলার।

বাফুফে ভবনের চিত্র ততোদিনে বদলে গেছে। 

কাজী সালাউদ্দিনের চেয়ারে এখন বসেন তাবিথ আউয়াল। সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে ইমরুল হাসান তার অবস্থানটা ঠিকই ধরে রেখেছেন, বদল হয়েছে সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের চেয়ার। তবে বদল হয়নি সত্যজিৎ রুপু চেয়ার। 

ন্যাশনাল টিমস কমিটির গুরুত্বপূর্ণ একটি সভা চলছে। কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সবাই উপস্থিত আছেন। সব জড়তা কাটিয়ে তাবিথ সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়লেন- তা টিম ম্যানেজারের দায়িত্বটা কাকে দেয়া যায়! আর তাতেই রুপুর রুপে কাঠিন্যে ধরা পড়লো। প্রস্তাবটি কখনো উত্থাপিত হতে পারে- তা বোধহয় রুপু ভাবেনও নি! 

সত্যজিৎ রুপু ভেবেছিলেন কেউ এ ব্যাপারে ভেটো দিবে না। তাই নিজেই আগ বাড়িয়ে বললেন, আমি তো যাচ্ছি কয়েক বছর থেকেই..! এবার নিরবতা ভেঙ্গে কথা বললেন ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ; আমিরুল বাবু ও ইকবাল হোসেনের মত নিয়ে বললেন, রুপু ভাই তো সবসময়ই যান- এবার নতুন কাউকে দায়িত্ব দিলে ভালো হয়। বাকবিতন্ডা, উপ্তপ্ততার সৃষ্টি এখান থেকেই। সত্যজিৎ রুপু ধরেই নিয়েছিলেন, জাতীয় দলের টিম ম্যানেজার হিসেবে তিনি সারাজীবনই কাজ করবেন, মানে এটা তার বাপ-দাদার সম্পত্তি। 

পরদিন জানা গেলো ওই সভায় জাতীয় দলের টিম ম্যানেজার হিসেবে উত্তাপিত ও নির্ধারিত হয়েছে আমের খানের নাম। কোনো ধরণের ভোটিং ছাড়াই সিলেকশন পদ্ধতিতে সেদিন থেকে আমের খান হয়ে গেলেন টিম ম্যানেজার। 

আমের খানের গল্প আরেকদিন বলা যাবে। আজকে অন্যে আরেকজন সিলেক্টেড মানুষের গল্প শোনা যাক।

বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৭/১৯/২০ দলের জন্য মনোনীত টিম ম্যানেজার কোনো কালেই ছিলো না। তবুও বিভিন্ন ফেডারেশন কর্তাকে বিভিন্ন সময়ে এই পদে বিবেচিত করে দেশ ও দেশের বাইরে দল পাঠানো হয়েছে। আর কদিন পরেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন সামিদ কাশেম। ফুটবল পাড়ায় অপরিচিত মুখ কে এই সামিদ কাশেম? ফুটবল দলের টিম ম্যানেজারের দায়িত্ব তিনি কিভাবে পেলেন এবং তিনি কিভাবে বাফুফের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে দিনদিন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন- তা সম্পর্কে কিছু বলা প্রয়োজন। 

সানলাইট ব্যাটারি, সান চিপস, ওয়েভ শেভিং ক্রিম কিংবা সান পানি ও ওয়েভ ফেগ্রেন্স এর নামের সাথে আমরা মোটামুটি সবাই পরিচিত। এই প্রোডাক্টগুলোর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে কাশেম ড্রাই সেলস ও কাশেম ফুড প্রোডাক্ট।  ৩ টা ভিন্ন ব্র‍্যান্ড ও প্রায় ২৫০০ কর্মকর্তা কর্মচারির কাশেম ফুড প্রোডাক্টস বাংলাদেশের ৬৪ টা জেলায় তাদের ব্যবসা বিস্তৃত করেছে। এই কোম্পানির প্রতিষ্টাতা তাসভির উল ইসলাম বর্তমানে কোম্পানির মাননীয় চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদে আছেন। একজন প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ীর পাশাপাশি তার আরোও একটি পরিচয় আছে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির  সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টাদের একজন এবং বাংলাদেশের অস্ট্রিয়া হাই-কমিশনের বাংলাদেশী প্রতিনিধি হিসেবে বিনা পারিশ্রমিকে ‘ভলেন্টারি’ দায়িত্ব পালন করেন। 

তাসভির উল ইসলাম রাজনীতির সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত ২০০০ সাল থেকেই। ২০০১ সাল থেকেই বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন, ২০০৮, ২০১৮ ও সর্বশেষ ২০২৬ এর নির্বাচনে বিএনপির হয়ে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। 

২০১৯ সালের ২৮ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১ টায় বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং ২৬ জন মানুষের জীবন অকালে চলে যায়! আহত হন আরোও ৭০ জন মানুষ। রাজউকের দাবি এই ভবনটি অপরিকল্পিতভাবে বানানো হয়েছে এবং ২১ তলা পর্যন্ত বানানোর অনুমোদন ছিলোনা। ১৯৯৬ সালের এফ আর টাওয়ারের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত নকশা ভবনের উচ্চতা ১৮তলা, যদিও নির্মাণ করা হয় ২৩তলা। টাওয়ারের বর্ধিত অংশের, অর্থ্যাৎ ১৮-২৩ তলার মালিক তাসভির উল ইসলাম! রুপায়ন গ্রুপের মালিক ফারুকের সাথে বন্ধুত্ব ও ব্যবসায়ীক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে ৫ তলা বেশি নির্মান করেন এই বিএনপি নেতা! 

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বনানী পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিল্টন দত্ত বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪৩৬/৩০৪(ক)/৪২৭/১০৯ ধারায় মামলা করেন। এজাহারে এসএমএইচআই ফারুক, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান ও তাসভীর উল ইসলামকে আসামি করা হয়। 

এতো বড় ঘটনার পরও তাসভির রয়ে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। বর্তমানে এফআর টাওয়ারের ২১, ২২ ও ২৩ তলা তিনি কাশেম ড্রাইসেল এর হেড অফিস হিসেবে ব্যবহার করছেন। 

সামিদ কাশেম হচ্ছেন এই তাসভীর উল আলম এর ছেলে। 

এবার আসি সামিদ কাশেম কিভাবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে ঢুকলেন এবং জাতীয় অনুর্ধ-২০ দলের টিম ম্যানেজার এর পদটা ভাগিয়ে নিলেন সেই আলাপে। তবে তার আগে, সামিদ কাশেম সম্পর্কে একটু ধারণা দেয়া প্রয়োজন আপনাদের। 

স্বভাবতই ব্যবসায়ী বাবার সন্তান ব্যবসায়ী হয়েছেন। ২০০৯ সালে আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ ক্লার্ক থেকে জিওগ্রাফিতে ব্যাচেলর ডিগ্রি ও একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি গ্রহণ করেছেন। মাঝখানের সময়টায় দেশে ফিরে কাশেম ইন্ড্রাস্ট্রিজের সিস্টার কনসার্ন হিসেবে ‘কাশেম ফুডস প্রোডাক্টস’ প্রতিষ্টা করেন। ২০০৭ সাল থেকেই কাশেম ইন্ড্রাস্ট্রিজে পূর্ণকালীন ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন। 

গত ২০ বছরে তিনি কেবল ব্যবসাই করেছেন, কখনোই ফুটবলের সাথে সম্পৃক্ততা দূরে থাক- এ ধরণের কোন এক্টিভিটিতেও নিজেকে জড়ান নি সামিদ কাশেম। তবে ৩ টা নির্বাচনে বাবার জন্য দোয়া ও ভোট চাইতে ঠিকই মাঠে ছিলেন। 

‘২৪ এর পটপরিবর্তনে বিশাল পরিবর্তন আসে বাংলাদেশের খেলাধুলায়। ফুটবল ফেডারেশনে সভাপতি হন তাবিথ আউয়াল। তাবিথ ঢেলে সাজান তার সবগুলো কমিটি। এমনই এক কমিটি হচ্ছে বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি। যেখানে নাসির শাহরিয়ার জাহিদিকে চেয়ারম্যান করে ৮ জনের একটি কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। উক্ত ৮ জনের মধ্যে সামিদ কাশেমের নাম দেখে অনেকেই যারপরনাই অবাক হয়েছিলেন। 

তবে এর আড়ালে যে কাজ করেছে স্বজনপ্রীতি, তা বুঝতে রকেট সায়েন্টিস্ট হতে হয় না। স্পন্সর ও ডোনেশন আদায়ের যন্ত্র হিসেবে সামিদ কাশেমকে বাফুফেতে নিয়ে আসেন নাসির শাহরিয়ার জিহাদি।

অবশ্য সামিদের জন্য বাফুফে একটা আইডিয়াল জায়গা। 

তাবিথ আউয়ালের পিতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু হচ্ছেন তাসভীর উল আলম এর প্রচন্ড কাছের বন্ধু। রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান নাসির শাহরিয়ার জিহাদির সাথেও তার দহরমমহরম সম্পর্ক। এই দুটো সম্পর্কের পাশাপাশি তাবিথ আউয়ালের সাথেও ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের সম্পর্ক সামিদের। তবে এখানে সবচেয়ে বড় যে পরিচয়টা কাজ করেছে, তা একই রাজনৈতিক দলের প্রজ্ঞা। 

বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটিতে সামিদ কাশেমের অন্তর্ভুক্তি নায্য কিনা- সেটা ভিন্ন আলাপ। তবে পরিসংখ্যান বলছে এর আগেও ফুটবলের সাথে সংশ্লিষ্টতা না থাকার পরেও এই কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন অনেকেই, এবং বর্তমান কমিটিতেও সামিদ ছাড়াও অনেকে আছেন। 

বাফুফের এই কমিটির কাজ কি? 

  • ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট
  • ফুটবল একাডেমি কেন্দ্রিক রিসার্চ ও ডেভেলপ
  • লং টার্মের জন্য দেশীয় ফুটবলের প্লানিং, ইত্যাদি। 

সামিদ কাশেম বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটিতে থেকে এইসব কাজ করার সুযোগ দূরে থাক- কোনো সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারেন নি। 

২০২৫ সালে এসে সামিদের উপর আরোও একটি সাব-কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়; যেখানে দেশের একাডেমি ফ্যাসিলিটি গুলো রিভিউ করা, ট্রেনিং সিস্টেম উন্নত করা ও বাফুফে এলিট কমিটি কিংবা বিকেএসপির মত প্রতিষ্টানগুলোকে বাফুফের অধীনে নিয়ে এসে একসাথে উন্নয়নে কাজ করা। কিন্তু নিজের প্রতিষ্টানে নয়টা- ছয়টার পূর্ণকালীন চাকরি ফেলে সামিদ কখন করবেন এইসব কাজ?

বাফুফেতে সামিদের টিম ম্যানেজার হিসেবে যাত্রা শুরু হয় অনুর্ধ-১৭ দলের সাথে, এএফসির এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারে। যেখানে তিনি দলকে লজিস্টিক ও অপারেশনাল দায়িত্বে সাহায্য করেছেন। এই ধরণের কাজ করিয়ে নেয়ার জন্য বাফুফে’কে সামিদ কাশেমের মতো একজন কর্পোরেট, ব্যবসায়ীকেই নিয়োগ দিতে হলো? 

এখন প্রশ্ন যখন উঠে- এই এক্সিকিউটিভ পদের জন্য 

সামিদ কাশেমের নিয়োগ প্রক্রিয়া কিভাবে সম্পন্ন হয়েছে? উত্তরটা সহজভাবে ব্যাখ্যা করা যায়; 

  • পারিবারিক ও কর্পোরেট কানেকশন
  • খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী (যদিও মাঠের খেলাধুলা কিংবা এই ধরণের কোনো এক্টিভিটির সাথে সামিদের কখনোই কোনো সম্পর্ক ছিলোনা।)
  • সিলেকশনে নিয়োগ পেয়ে যাওয়া। এবং এই নিয়োগ পদ্ধতিটাও হয়েছে ইন্টারন্যালি বা অভ্যন্তরীণ। যা খোদ বাফুফের অনেকেই জানতেন না!

বাফুফেতে সামিদ কাশেমের অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় অনুর্ধ-২০ দলের গুরুত্বপূর্ণ টিম ম্যানেজার পদ পাওয়ার মতো ঘটনা বিশ্ব ফুটবলে হাতেগোনা দুইটি আছে। 

ভারতের প্রফুল প্যাটেল ও নাইজেরিয়ার আমাজু পিনিক- দুজনেই ব্যবসায়ী। প্যাটেল রাজনীতিকও বটে! 

এছাড়াও আর্জেন্টিনার কার্লোস বিলার্দো ও জার্মানির অলিভার বিয়ারহফ ফুটবলের বাইরে থেকেও জাতীয় দলের টিম ম্যানেজারের দায়িত্ব পেয়েছিলেন- যদিও তারা দুজনেই সাবেক খেলোয়াড় ছিলেন; তাই পুরোপুরি খেলাধুলার বাইরে বলা ঠিক হবে না।

সামিদ কাশেমকে বাফুফেতে যে কাজের জন্য নিয়ে এসেছিলেন নাসির জাহেদি, তার কিছুই হয়নি! অর্থাৎ,  তার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ব্র‍্যান্ড ডিল ও স্পন্সর নিয়ে আসা। বরং, বিনামূল্যে অনুর্ধ-১৭ দলের অফিসিয়াল স্পন্সর হিসেবে নিজের কোম্পানি রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের নাম ঠিকই জড়িয়ে ফেলেছেন তিনি। 

সামিদ কাশেম বর্তমানে যে দলটির টিম ম্যানেজার, অর্থাৎ অনুর্ধ-২০ এর; তাদের প্রেক্টিস কিট ও যাবতীয় সবকিছুতেই রেডিয়েন্ট ফার্মার লগো ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়; যদিও চুক্তিটি ছিলো শুধুমাত্র অনুর্ধ-১৭ দলের জন্য! 

অবশ্য খোদ বাফুফে সভাপতিই নিজের প্রতিষ্ঠানের ফ্রি মার্কেটিং করাচ্ছেন এবং জাতীয় স্টেডিয়ামে বিশাল বড় বড় সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন কোম্পানির সাথে বাফুফের কোনো ধরণের চুক্তি ছাড়াই! বাবার ব্যবসায়িক প্রতিষ্টান মাল্টিমোড গ্রুপের অধীনস্থ ‘লাল তীর পিএলসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন থেকেই জড়িত আছেন তাবিথ আউয়াল। 

আমার ব্যক্তিগত অনুসন্ধারে বর্তমানে বাফুফের স্থায়ী ও অস্থায়ী কমার্শিয়াল/স্পন্সরশীপ ডিল আছে ৩৯ টা।  ৯ টি স্থায়ী দীর্ঘমেয়াদি ও আরোও ১২ টি চুক্তিভিত্তিক স্থায়ী এবং বাকিগুলো শুধুমাত্র ইভেন্ট কেন্দ্রিক চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। এই তালিকায় ‘লাল তীর পিএলসি’ না থাকলেও জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিগত সবগুলো ম্যাচেই এই কোম্পানিটির ব্যানার/ফেস্টুন দেখা গেছে। এমনকি বাফুফের পেইজ থেকেও লাল তীরের সাথে এসোসিয়েশনের পোষ্টও করা হয়েছে। 

বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৭, ১৯ ও ২০ দলের জন্য টিম ম্যানেজার আগে কখনোই ছিলোনা; সামিদ কাশেমই প্রথম ব্যক্তি এই দায়িত্ব পালন করছেন। এলাউন্স হিসেবে কাগজপত্রে ৫০০ ডলার এর জায়গায় এখন ৭৫০ ডলার দেখানো হলেও, সামিদ কাশেম ১২০০ ডলার ভাতা পাচ্ছেন। 

পাল বদলের হাওয়ায় ফুটবলে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে।

এই যেমন একসময় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ হয়ে উঠেছিলো ব্যবসায়ীদের আতুড়ঘর। আর বর্তমানে ব্যবসায়ীরা বেছে নিচ্ছেন ফুটবল ফেডারেশনের মতো প্রতিষ্ঠান! আর প্রতিষ্ঠানটি বেছে বেছে অখেলোয়াড়, অযোগ্য ও কর্পোরেট পলিটিশিয়ানদের ধরে নিয়ে আসছে। সামিদ কাশেম যেন এর অনন্য এক উদাহরণ! 

অনুর্ধ-১৭ ও ২০ দলের এই টিম ম্যানেজার নিজ প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন চাকরিতে প্রচন্ড ব্যস্ত থাকায় খেলাধুলা, একাডেমি, ডেভেলপমেন্ট কিংবা বাফুফের কোনো কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়াতে না পারলেও বাবার নির্বাচন উপলক্ষে মাত্র ১ মাস আগেও দিনকে রাত, রাতকে দিন করেছেন নির্বাচনী প্রচারণায়! 

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন- বাফুফে এখন আর বাফুফে নাই; হয়ে গেছে বাংলাদেশ পলিটিকাল ফেডারেশন। যেখানে শুধুমাত্র দলীয় লোকদের নিয়োগ দেয়ার দোষে দোষী ছিলেন কাজী সালাউদ্দিন- তাবিথ আউয়ালও সেখানে ঠিক গাড়ির চাকা একই রাস্তায় মাড়াচ্ছেন; কিন্তু অতি কৌশলে, সাবধানতার সাথে। বাফুফে’কে তিনি ঢেলে সাজাচ্ছেন সামিদ কাশেমের মতো এলিটদের দিয়ে.. 

বাংলাদেশ ফুটবল বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছে অনুর্ধ-২০ দলের হেড কোচ মার্ক কক্স ইস্যুতে। বলে রাখা ভালো, বাফুফে’কে কক্সের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া, কোচ হিসেবে মনোনীত করা, বাংলাদেশে নিয়ে আসা ও ১ মাসের কনসালটেন্ট রোল থেকে হেড কোচের দায়িত্ব দেয়া- এর সমস্তটাই করেছেন সামিদ কাশেম। এ নিয়ে ছোটনের সাথে তার মুখ দেখাদেখিও বন্ধ আছে গত সপ্তাহ থেকে! 

বাংলাদেশ ফুটবল রাজনীতি, ব্যবসায়ী ও এলিট মুক্ত হোক- বাংলাদেশ ফুটবল দীর্ঘজীবী হোক। 

The Elite | আহমদ আতিকুজ্জামান | ডাগআউট। 

জনপ্রিয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *