এক সাপের দুই মুখ : মাহি উদ্দিন সেলিম!

একজন ফেরারি আসামী, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী, মানবতার ফেরিওয়ালা; ক্রীড়ানুরাগী কিংবা সিআইপি; ফ্যাসিস্টদের দোসর কিংবা নিজেই ফ্যাসিস্ট- যে নৌকা ভাসে তীরহারা সমুদ্রে আবার মরুর বুকে। বিষহীন দুমুখো এক সাপ; যার গায়ের চামড়া বদলায়, কিন্তু অভ্যাস বদলায় না। এদের মধ্যে থেকে ঠিক কোন বিশেষণে একজন মানুষকে আপাদমস্তক বর্ণনা করা যায়?

আপাততদৃষ্টিতে প্রশ্ন আসতেই পারে- একজন মানুষের কতটাই বা আর রুপ থাকতে পারে; কতটা লেবাসেই বা আর নিজেকে উপস্থাপন করতে পারে একজন জলজ্যান্ত মানুষ। যদি বলি উপরের সবকটি বিশেষণেই একজন মানুষ তার পুরোটা জীবন অভিনয় করে গেছেন; এবং এখনো দিব্যি সে নাটক প্রতিনিয়ত মঞ্চস্থ হচ্ছে আমার আপনার চারপাশে- ঠিক বিশ্বাস করবেন সে কথা?

একজন মাহি উদ্দিন আহমেদ সেলিম!
পুরো রমজান মাস জুড়ে গরীবদের ইফতার খাওয়ানো, বিভিন্ন সময়ে দান খয়রাত করে খবরের শিরোনাম হওয়া, কিংবা সামাজিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে নিজেকে জড়ানো- এগুলা তিনি বছরের পর বছর করে আসছেন। তবে এর ভীড়ে তার আরেক চরিত্র আছে। যে মুখোশ তাকে সবাই পরে থাকতে দেখেন না। দিনের পর দিন এই সেলিম বহু কাজে নিজেকে জড়িয়েছেন, যেগুলো কেউ কখনো ধারণাও করেন নি।

শুরুটা করা যাক ব্যবসায়ী মাহি উদ্দিনের পরিচয় দিয়ে। সিলেট শহরের বিখ্যাত প্রতিষ্টান মাহা’র কর্ণধার হিসেবে তার যেমন নামডাক আছে, তেমনি এই প্রতিষ্টানেরও বহু সুনাম আছে। মাহি সেলিম একটা সময় ‘আল হারামাইন’ পারফিউমের কর্ণধার নাসির উদ্দিনের অনুপ্রেরণায় কাতারে তার পারফিউমের ব্যবসা শুরু করেন, এবং বর্তমানে দোহা’য় সেলিম, আবির ও আলি পারফিউম নামে তার তিনটি প্রতিষ্টান আছে। প্রতিষ্টানগুলো থেকে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশ থেকে পেয়েছেন ‘সিআইপি’ বা কমার্শিয়াল ইম্পর্ট্যান্ট পারসন সম্মাননা। তার আরেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বিয়ানিবাজারের সংবাদ মাধ্যম এবি নিউজ।

পুরোদস্তুর একজন ব্যবসায়ী মাহি সেলিম কিভাবে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা বাফুফে’তে নিজেকে
জড়ালেন এবং কালের বিবর্তনে ও ফ্যাসিস্টের আমলে প্রচন্ড ক্ষমতাবান হিসেবে নিজেই একজন ফ্যাসিস্ট রুপে পরিনত হলেন- এটাই দেখার বিষয়।

শুরুটা ২০১০ সালের ডিসেম্বরে।
সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেন মাহি উদ্দিন সেলিম। কিন্তু এই কমিটির মেয়ার শেষ হয়ে গেলে, সিলেট জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক ও সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭ জনের এডহক কমিটি দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ৯০ দিনের ভিতরে নির্বাচন দেয়ার আশ্বাস দেন সেলিম। ক্রীড়া পরিষদ গঠনতন্ত্রের ২৩ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, ‘এডহক কমিটির কেউ নির্বাচনে অংশ্রহন করতে পারবেন না।’

২০১৫ সালে নির্বাচনের প্রস্তুতিকালে মাহি সেলিম মিডিয়াও জানান একি কথা- এ্যডহক কমিটির কেউ নির্বাচন করবেন না। অথচ নিজেই এই আইন অমান্য করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন সেলিম! এই বিষয়টি নজরে এলে হাইকোর্ট ডিবিশনে একটি রিট করেন সালমা সুলতানা নামে এক মহিলা।
ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন স্থগিত করেন। এডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহি উদ্দিন এই নিয়মটি জানতেন না? নাকি নির্বাচন বানচাল করার জন্যই তিনি এই কাজটি করেছেন তা আশাকরি বলার প্রয়োজন নেই।

এইযে ক্ষমতার মোহে পড়লেন সেলিম, এই ধারা আজ অব্দি বহাল আছে। সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন ছাড়াই টানা ১০ বছর সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের পদটি দখল করে রেখেছিলেন তিনি। অবশেষে সর্বশেষ ২০২০ সালে যখন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সবাই, সেলিম এখানে একজন মাফিয়ার ভূমিকা পালন করবেন। আর এখানে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত ক্ষমতার উৎস হবেন সফিউল আলম চৌধুরি নাদেল; বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, মৌলভীবাজার-২ আসনের সাংসদ ও ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক!

২০২০ সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন ঘিরে দুইটি প্যানেল নির্বাচন করার কথা ছিলো। কিন্তু সফিউল আলম নাদেল তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন থেকে তাদের মাইনাস করে দেন মাহি উদ্দিন সেলিম! সেলিম ২৫ জনের যে প্যানেল দেন, সেখানে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে শফিউল আলম নাদেলও আছেন। নির্বাচনে তাদের এতোই মাইনাস করেন যে ঐ প্যানেল আর নির্বাচনেই যায়নি! পরে জেলা প্রশাসকের কাছে নাদেল- সেলিম জুটি জানান যে দুইটি প্যানেল একত্রিত করে সমোঝোতার মাধ্যমে ১টিতে একত্রিত হয়েছেন সব। সাবেক জেলা প্রসাশক (রাজস্ব) মো: আসলাম ছিলেন একান্তই নাদেলের লোক; তিনিও এই কমিটি মেনে নেন! তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২৫ জনের প্যানেল নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেন মাহি উদ্দিন সেলিম।

শফিউল আলম নাদেলের সহযোগিতায় সেলিম শুধু ক্রীড়া সংস্থায় নিজের অবস্থান শক্তই করেন নি, বরং ক্রিকেট ফুটবল ও অন্যান্য খেলা আয়োজন কেন্দ্রিক নামে বেনামে টেন্ডারবাজী, টিকেট কেলেঙ্কারি, কমিটিতে একচ্ছত্র আধিপত্য, বিনা পয়সায় নিজের প্রতিষ্টানের মার্কেটিং, সিলেটে বিপিএল এনে ও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ এবং অন্যান্য অনেক টুর্নামেন্ট আয়োজন করে কেবল নিজের পকেট ভারি করেছেন
মাহি। তার ক্ষমতার কাছে ধারেও কেউ ঘেষতে পারেনি কখনোই; তৃণমূল পর্যায়েও তাকে দেখা যেতো ক্রিকেট ফুটবল নিয়ে কাজ করতে- তবে এগুলো ছিলো শুধুই আই-ওয়াশ বৈ কিছু না।

সিলেট ক্রীড়া সংস্থায় শুরু, মাহি উদ্দিন নিজেকে নিয়ে গেলেন বাফুফের চেয়ারেও! সালাউদ্দিনের একান্ত মানুষ হিসেবে সিলেটের ফুটবলকে পিছিয়ে দেয়ার কারিগর মাহি উদ্দিন, সালাউদ্দিন পরবর্তী তাবিথ আউয়ালের কমিটিতেও বহাল অবস্থানে আছেন।
ফুটবল ফেডারেশনের বর্তমান এক্সিকিউটিভ কমিটির
একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু এই এক বছরে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কোনো সভায় তিনি উপস্থিত থাকেন নি। অথচ মাস শেষ হলেই অত্যন্ত উচ্চ সংখ্যার বেতন ঢুকছে তার একাউন্টে!

কার্যকরী কমিটির একজন সদস্য কিভাবে কোনো আলোচনা, সভা কিংবা মিটিংয়ে উপস্থিত না থেকেও দিনের পর দিন বেতন ভোগ করে যাচ্ছেন- এই প্রশ্নের উত্তর আসলে কেউ জানেন না। তবে এটা নিশ্চিত, ফ্যাসিস্টের আমলে নিয়োগ পাওয়া সালাউদ্দিনের মতোই এতোদিনে নিজেও একজন ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছেন মাহি উদ্দিন সেলিম।

সেলিমের বর্তমান পরিচয় আসলে কোনটা?
বাফুফের কার্যকরী সদস্য? সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক? সিলেট জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট? বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ফিন্যান্স কমিটির সদস্য? সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক? নাকি সিলেট সিটি মেয়রের জন্য মনোনয়ন চাওয়া আওয়ামীলীগের ক্যান্ডিডেট?

উত্তরটা হচ্ছে এর সবই।
অর্থ্যাৎ, মাহি উদ্দিন আহমেদ সেলিম মানুষ একজন হলেও সময়ের ব্যবধানে ভাগিয়ে নিয়েছেন অসংখ্য পদ পদবী। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর যে তথ্য, নিজের ক্ষমতাকে নাগালের বাইরে নেয়ার জন্য মাহি হতে চেয়েছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন মেয়র! ১১ এপ্রিল, ২০২৩। মঙ্গলবার। আওয়ামী লীগ সভাপতি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন মাহি উদ্দিন আহমেদ সেলিম।

ক্রিকেট, ফুটবল থেকে রাজনীতি- সব জায়গায় নিজের অস্তিত্বের ছাপ রেখেছেন সেলিম। এর আড়ালে ব্যবসায়ীক পরিচয়ে সরকার থেকে ভাগিয়ে নিয়েছেন বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা। বর্তমান বাফুফের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এই সদস্যের বিরুদ্ধে দুটি গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি প্রশাসনকে।

১. একজন ফেরারি আসামী কিভাবে বাফুফের সাংগঠনিক কমিটিতে থাকতে পারেন?

২. বাফুফের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যিনি অযোগ্য, তিনি কিভাবে এই পদবিতে থাকেন?

অভিযোগ ১: ফেরারি আসামি!

মাহি উদ্দিন সেলিম রাজনীতির সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন এটা বলাই বাহুল্য। জন্মস্থান বিয়ানি বাজারে তার ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন গ্রুপ, যাদের ভরনপোষণ তিনি করতেন এবং তার মদদেই বেপরোয়া হয়ে উঠে কিছু গ্রুপ। যাদের তান্ডব জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনেও দেখা গেছে।

জুলাই আন্দোলনের পর একটি মামলার আসামী হন মাহি উদ্দিন সেলিম। হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলাটি দায়ের করেন বালাগঞ্জের খুজগীরপুর গ্রামের মৃত মাহমদ আলীর ছেলে মো. আবদুস ছালাম টিপু। মামলা নং ২৭০/১৫৮৫। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জিয়াউল হক
আমাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ ২ : বাফুফের গঠনতন্ত্রে অযোগ্য ব্যক্তি!

বাফুফের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেকে বসালেও মাহি উদ্দিন বাফুফের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একজন অযোগ্য ব্যক্তি! অযোগ্য এই অর্থে যে, তিনি নির্বাচনে অংশ নেয়ার ক্ষমতাই রাখেন না।

বাফুফের গঠনতন্ত্রে নির্বাচন সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ২৫ (ইংরেজিতে) মাত্র চার লাইনের। নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশটি রয়েছে অনুচ্ছেদ-৩২ নির্বাহী কমিটির অংশে। যেখানে স্পষ্ট বলা আছে ‘ফুটবলে সক্রিয় থাকতে হবে এবং আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া যাবে না। ফুটবলে সক্রিয়তা এবং আদালতের সাজাপ্রাপ্তের মাঝে ‘এন্ড’ যুক্ত করে বলা হয়েছে– ‘এন্ড হ্যাভ রেসিডেন্সি আউট অফ টেরিটরি অফ বাংলাদেশ।’

বাফুফের নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে কি বলে, জানতে চেয়েছিলাম। যে উত্তর পেয়েছি তা হলো- দৈত নাগরিক কেউ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। ২০০৮ সাল থেকে বাফুফের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন। তিনি গঠনতন্ত্রের রেসিডেন্সি অংশ নিয়ে বলেন, ‘বাফুফে গঠনতন্ত্রমতে বাংলাদেশের বাইরে নিবাসী ব্যক্তি নির্বাচনের অযোগ্য।

অথচ মাহি উদ্দিন সেলিম কাতারের নাগরিকত্ব পেয়েছেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন দীর্ঘ বছর ধরে। সুতরাং তার নির্বাচন করার গ্রহণযোগ্যই নেই, এবং বাফুফের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসার তো প্রশ্নই উঠে না। তাছাড়া তিনি একজন দন্ডপ্রাপ্ত আসামী এবং বর্তমানে ফেরারি জীবন পার করছেন।

শুধুমাত্র সিলেট ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারি পদে থাকাকালীন যেসব দূর্নীতির সাথে মাহি নিজেকে জড়িয়েছেন, তার ফিরিস্তি বলে শেষ করা যাবেনা।
তবে কয়েকটা উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারছিনা।

– সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দুই কোটি টাকা! দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্বে থাকলেও এই বিল পরিশোধ করেন নি মাহি। ফলে বাংলাদেশ বনাম সেশেলস যে ম্যাচটি রাতে হওয়ার কথা ছিলো, তা দিনের আলোয় করতে হয়- কারণ ফ্লাডলাইট বন্ধ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিদ্যুৎ অফিস।

– এনসিএল ঘিরে ক্রিকেটার, ক্লাব মালিক এবং মাহি উদ্দিন সেলিম দ্বন্ধ বহুদিনের পুরনো। সিলেটের মাঠে ঘরোয়া ক্রিকেটের নামে ফিক্সিং, খেলোয়াড়দের নিয়ে বিরোধ, ক্লাব মালিকদের চুপ করে রাখা কিংবা মাঠের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে হুমকি দিয়েছিলেন মাহি!

– বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের নামে সিলেটে লক্ষ কোটি টাকা খরচ করার হিসাব দিয়েছেন মাহি, অথচ কাজের কাজ কতটুকু হয়েছে তা ছিলো দৃশ্যমান। নিজের প্রতিষ্টানের মার্কেটিং করেছেন ফ্রিতে। টিকেট বানিজ্যে করেছেন দিবালোকে।

– সিলেট বিকেএসপি প্রকল্পে ২৬ কোটি টাকা, স্পোর্টস কমপ্লেক্সের নামে আরোও ১৬ কোটি টাকা টেন্ডার হাতিয়ে নিয়েছেন নিজের পরিচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে। সিলেট বিকেএসপি এ যাবৎকালের সবচেয়ে বাজে ইনভেস্টমেন্ট বলেও মনে করেন অনেকে। শুধুমাত্র ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়ানো হয় সেখানে আর ফুটবল ছাড়া আর কোনো ডিসিপ্লিন সেখানে হয় না। ১৩ একর জমিতে কেবল হাহাকার। অথচ খরচ বছরে কোটি টাকা!

– ২০১৪ বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশে ৭ হাজার বল পাঠিয়েছিলো ফিফা। সেগুলো বিভিন্ন বিকেএসপিতে যাওয়ার কথা ছিলো; সিলেটে এসেছিলো প্রায় আড়াই হাজার বল। কিন্তু সেগুলো বিকেএসপিতে না গিয়ে নিজ গ্রামে ও পরিচিতদের মাঝে বিলি করে দেন মাহি।

– সিলেট স্টেডিয়াম সংস্কার বাবদ আড়াই কোটি টাকা লাপাত্তা, শুধুমাত্র কয়েকশো চেয়ার স্থাপন ও পুরনো চেয়ার পরিষ্কার করেই দায়িত্ব সেরেছেন মাহি সেলিম। বাঁশ ও কাঠের স্কোরবোর্ড টাঙ্গিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রস্তুতি নেয়ার ব্যাপক সমালোচনার মুখেও পড়েন তিনি।

– সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্ন- সিলেট থেকে ক্রিকেটার কিংবা ফুটবলার বের হয়না কেন? এর উত্তর হচ্ছে মাহি সেলিমের সিন্ডিকেট ও বানিজ্যে। তিনি একটা গ্রুপ তৈরি করেছেন যারা শুধুমাত্র টাকার বদলে দলে জায়গা করে দেয়ার ব্যবস্থা করে দিতেন। ক্রিকেটে তাকে সাহায্য করতেন নাদেল, ফুটবলে রক্সি।

এতসব অভিযোগ মাথায় নিয়েও বাফুফের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে তিনি আসীন হয়েছেন। ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করে, নিজেই ফ্যাসিবাদী চরিত্র হয়ে উঠা মাহি উদ্দিন সেলিম বর্তমানে ফুটবলের সবচেয়ে বড় সিন্ডিকেটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তাবিথ আউয়াল যে ফেডারেশন বর্তমান চালাচ্ছেন, সেখানে ফেডারেশনের ভেতরেই চলছে আরেক ফেডারেশন। যাদের কাজ হচ্ছে ক্ষমতার সর্বোচ্চটা দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা।

একজন ফেরারি দন্ডপ্রাপ্ত আসামি, দূর্নীতিবাজ সংগঠক, ফ্যাসিবাদের দোসর; বাফুফের অযোগ্য প্রার্থী, কাজ না করে বেতন ভোগ করা সদস্য, সিন্ডিকেটের মূলহোতাদের একজন মাহি উদ্দিন আহমেদ সেলিম কিভাবে জুলাইয়ের পরও রক্তের দাগ হাতে নিয়ে বাফুফের মতো প্রতিষ্টানের গুরুত্বপূর্ণ
পদে বসতে পারেন- এই প্রশ্ন আমার জানা নেই।
তবে জেনে রাখুন- মাহি উদ্দিনের মতো মানুষ বাফুফে কিংবা জেলা ক্রীড়া সংস্থায় থাকার পরিনত শুভ হবে না আগামীতে। আর ‘ওয়ান্স আ আওয়ামীলীগ, অলওয়েজ আ আওয়ামিলীগ’ এইটাও মনে রাইখেন।

বাংলাদেশ ফুটবল দীর্ঘজীবী হোক।

এক সাপের দুই মুখ | আহমদ আতিকুজ্জামান।

জনপ্রিয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *