১২-ই অক্টোবর ২০২৪।
বাফুফে ভবনে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে চলছে শেষ সময়ের ব্যস্ততা; শেষ দিনে মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিতে নির্বাচন কমিশনার মেজবাহ উদ্দিনের কক্ষে হাজির যে ব্যক্তি; তাকে দেখে যারপরনাই অবাক হয়েছেন অনেকেই। বাফুফে নির্বাচন করা দূরে থাক, খোদ বাফুফের আইনেই দন্ডপ্রাপ্ত যে মানুষ; তিনি কিনা মনোনয়ন কিনেছেন বাফুফে সহ-সভাপতি পদের!
সালাউদ্দিনের নির্বাচনে না আসা, সালাম মুর্শেদি ফিফার জরিমানা বিড়ম্বনায়, তরফদার রুহুল আমিন ও ইমরুল হাসানের সভাপতির পদে না লড়া- সবকিছু মিলিয়ে পালের হাওয়া তাবিথ আউয়ালের আকাশেই বইছিলো। কিন্তু ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সহ-সভাপতি পদে নিজের মনোনয়ন কিনে সবাইকে চমকেই দিলেন ফাহাদ করিম।
কিন্তু বাফুফের আদালতে দন্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি কিভাবে মনোনয়ন কিনেন এবং নির্বাচনে দাঁড়ান; সেটা আরোও বড় চমক। ফাহাদ করিম ‘২৪ সে নির্বাচনে সহ-সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছেন। তাকে ১ বছরের জন্য ফেডারেশনের মার্কেটিং কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
কে এই ফাহাদ মোহাম্মেদ আহমেদ করিম?
একজন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কর্তা কী কারণে বাফুফে সহ-সভাপতি হতে চান? দেশের ফুটবলের উন্নয়ন নাকি ব্যবসায়িক স্বার্থ? বাফুফের সাথে তার সম্পর্ক কতটুক গভীর এবং তিনি কিভাবে সময়ের ব্যবধানে আসামীর কাঠগড়া থেকে সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে নিজেকে বসিয়ে ফুটবলের অন্যতম হর্তাকর্তাদের একজন হয়ে উঠলেন? প্রশ্নগুলো আমরা জানার চেষ্টা করবো, আর বুঝতে চেষ্টা করবো বাংলাদেশ ফুটবলে ফাহাদ করিমের অধ্যায় কিভাবে সিনেমাকেও হার মানায়।
তবে তার আগে আমাদের অতীতে ফিরে যেতে হচ্ছে।
ঘন্টা দুয়েকের রুদ্ধদ্বার বৈঠক।
বাফুফে ভবন থেকে দু’জন’ই বের হলেন বিমর্ষ মুখে।
উত্তপ্ত বাক্য-তর্ক বিনিময় পর্যন্ত হয়েছে। তবু ফাহাদ করিম ছাড় দিতে নারাজ।
বাফুফে ভবনের একটা কক্ষে তৎকালীন সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদির সঙ্গে একান্তে বৈঠকে বসেছিলেন ফাহাদ করিম। বাফুফের কেউ না হলেও বাফুফের সঙ্গে তার অদ্ভুত রহস্যময় সখ্যতার এক সম্পর্ক। বৈঠকটি একান্তই সালাম মুর্শেদির কক্ষে করার জন্য তিনিই জানিয়েছিলেন। বৈঠকের বিষয়, ফাহাদ করিমের কাছ থেকে পাওনা টাকা যেকোনো মূল্যে আদায় করা!
ফাহাদ করিম পুরোদস্তুর একজন ব্যবসায়ী। তার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্টান ‘কে-স্পোর্টস’ এর মাধ্যমে বাফুফের অসংখ্য অনুষ্ঠান করে দিয়েছেন। তৎকালীন বাফুফে সভাপতি সালাউদ্দিনের একান্ত অনুগ্রহে টেন্ডারের উর্ধ্বে গিয়ে বারবার কে-স্পোর্টসকেই বাফুফের সকল অনুষ্টানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এমন বহু আয়োজনের পর চুক্তি অনুযায়ী কে-স্পোর্টসের কাছে প্রায় দুই কোটি টাকা পায় বাফুফে! বারবার চিঠি দিয়েও ফাহাদ করিমের প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছিলোনা; অবশেষে ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদি নিজে দায়িত্ব নিয়ে কাজটা করবেন বলে সালাউদ্দিনকে অবিহিত করেন। সালাউদ্দিনের গ্রিন সিগনালেই ফাহাদের সাথে একান্তে আলাপচারিতায় বসেছিলন মুর্শেদি। কিন্তু সে আলাপ ফলপ্রসূ হয়নি।
ফাহাদ করিম বাফুফের পাওয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি না জানালেও, ধোঁয়াশা তৈরি করছেন। টালবাহানা করে বরাবরই পাশ কাঠিয়ে যেতে চেয়েছেন।
ফাহাদ করিমের মালিকানাধীন প্রতিষ্টান কে-স্পোর্টসের কাছে ২ কোটি টাকা চেয়ে চিঠির প্রেক্ষিতে উল্টো বাফুফে চুক্তিভঙ্গ করেছে জানিয়ে পাল্টা চিঠি দেন ফাহাদ। ফাহাদের ভাষ্যমতে, কে-স্পোর্টসকে ডিঙিয়ে স্পন্সর হিসেবে বসুন্ধরা গ্রুপের কাছ থেকে অর্থ এনেছে বাফুফে। এ নিয়ে সালাম মুর্শেদি-ফাহাদের বেশ কয়েকটি বৈঠক হলেও, বাফুফের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্যই জমা দেন নি সালাম মোর্শেদি। অর্থাৎ, দুই কোটি টাকার ব্যাপার ফাহাদের সাথে তিনি ব্যক্তিগতভাবেই মীমাংসা করেছেন!
৩ অক্টোবর, ২০২৫। ফাহাদ করিমের নির্বাচন করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন নির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্য। ফাহাদের পক্ষ নিয়ে সেদিন ব্যাকাপ দেন মাহফুজা আক্তার কিরণ। সভাটি শেষ হয় চট্টগ্রামের আবাহনীর কাছে বাফুফের টাকা পাওয়ার হিসেবনিকেশ নিয়ে। সেদিনের সভার পরেই মাহফুজা কিরণ সবার তোপের মুখে পড়েন।
ফাহাদ করিমের সাথে সালাউদ্দিনের সখ্যতা বহুদিনের। বছরের পর বছর বাফুফের বিভিন্ন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব নিয়ে সালাউদ্দিনকে বিভিন্নভাবে খুশি করেছেন ফাহাদ; মাহফুজা কিরণকেও তখন পাশে পেয়েছিলেন। কিরণকে তিনি বারবার আশ্বাস দিয়েছেন নারী ফুটবল নিয়ে তিনি কাজ করতে চান, শুধু একটু সাপোর্ট জারি রাখতে।
অথচ ফাহাদ করিম একজন পরিক্ষিত আপাদমস্তক মিথ্যুক। ২০২৩ সালে তার প্রতিষ্ঠান কে-স্পোর্টস ঘোষণা দেয় দেশের ইতিহাসের প্রথমবারের মতো নারী ফ্রাঞ্চাইজি লীগ আয়োজন করার। স্পন্সর, পিআর, মার্কেটিং এবং আরোও বিভিন্ন লোভনীয় প্রস্তাব পাঠান বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান কিরণের কাছে। কিরণ সালাউদ্দিন গং এতে রাজীও হয়ে যান।
পাঁচ তারকা লা-মেরিডিয়ান হোটেলে এক জমকালো আয়োজনে নারী ফ্রাঞ্চাইজি লীগের লগো, বল ও ট্রফি উন্মোচন করেন ফাহাদ করিম। তবে সেটা নিছকই কোনো লগো উন্মোচন অনুষ্ঠান ছিলো না, দেশী বিদেশী তারকা এনে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলো বাফুফে। দেশিদের মধ্যে আজমেরি খান বাঁধন, তানজিন তিশা, চিরকুট ব্যান্ড পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত ফুটবল ফ্রিস্টাইল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আগুস্কা ও প্যাটট্রিক। ধারণা করা হয় শুধু লগো উন্মোচন অনুষ্ঠানেই প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ করেছেন ফাহাদ। কিন্তু এতোকিছুর পরও ২ বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ। বাফুফে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান সরকার, নির্বাচন ও অর্থ সংকটের কারণে তার প্রতিষ্ঠান এই আয়োজন করতে পারেনি!
ফাহাদ করিম আড়াই কোটি টাকা খরচ করে লগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশিদের নাচাতে পারেন, অথচ অর্থ সংকটে লীগ আয়োজন করতে পারেন না- এটা খুবই হাস্যকর ব্যাপার। এতে যে শুধু বাফুফেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা না, দেশের নারী খেলোয়াড়রাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অন্তত ৬ জন খেলোয়াড়কে ওই সময়ে দেশের বাইরে খেলার জন্য NOC বা ছাড়পত্র দেয়নি বাফুফে।
সেই ফাহাদ করিম-ই কিনা বাফুফে সহ-সভাপতি?
এবার অন্য আরেক ফাহাদ করিমের সন্ধান করা যাক।
১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫।
বাফুফে ভবনে এক ইতিহাসের সাক্ষী দেশের ফুটবল।
দেশীয় ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্টান দৌড় এর সাথে দুই বছরের জন্য চুক্তি করেছে বাফুফে। এর মাধ্যমে দৌড়ের কাছ থেকে সব পর্যায়ের জাতীয় দলের সকল কিট পাবে বাফুফে। দেশীয় প্রতিষ্টান এই দায়িত্ব পেয়েছে এটা যতটা না গর্বের বিষয়, এর আড়ালে আছে ঠিক ততোটাই নোংরামি আর কমিশন বানিজ্যের খবর।
হামজাদের আগমনে দেশে ফুটবল বিপ্লবের সাথে সাথে স্পন্সরেরা যেখানে হুমড়ি খেয়ে পড়ে, সেখানে দৌড় এর মতো প্রতিষ্ঠান এতো বড় চুক্তি করার কোনো সুযোগই পাওয়ার কথা না।
২০২০ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্টানটি কিভাবে একটা জাতীয় দলের কিট স্পন্সরের দায়িত্ব পায় সেটা ভাববার বিষয়। তারচেয়ে বড় ব্যাপার কিট স্পন্সর হিসেবে আর কেউ প্রতিযোগিতায় ছিলো কিনা; আর সেখানেই আসল গল্পটা লেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের কিট স্পন্সরের জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রস্তাব দিয়েছিলো আরোও দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। তাদের একটি হচ্ছে জাপানিজ স্পোর্টস সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিজুনো। ১১৯ বছরের পুরোনো এই প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বব্যাপী খ্যাতি আছে। বর্তমানে ইতালিয়ান ক্লাব লাজিও, জার্মান ক্লাব অগসবার্গ, ভিএফএল ভচ্যুম কিংবা ফ্রেঞ্চ ক্লাব মোনাকোর মতো ক্লাবের অফিসিয়াল কিট স্পন্সরের দায়িত্ব পালন করছে মিজুনো।
আর এই মিজুনো প্রতিষ্টানকে টপকিয়ে ৫০ জন কর্মচারীর একটা কোম্পানি দৌড়কে কিট স্পন্সরের দায়িত্ব দিয়েছেন ফাহাদ করিম তার কমিশন বানিজ্য টিকিয়ে রাখতে; একটা মেজর কারণ হিসেবে তিনি অবশ্য দৌড় এর কোয়ালিটির কথা বলেছেন। মিজুনো থেকে দৌড় এর কিট বেশি কোয়ালিটিফুল এটা অন্তত একটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না।
দৌড়কে জাতীয় দলের কিট স্পন্সর করার পূর্বে ফাহাদ করিম ব্যক্তিগতভাবে দৌড়ের মালিক আবিদুল ইসলামের সাথে বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎ করেছেন। এতেই স্পষ্ট হয়ে যায় দৌড়ের সাথে তার ব্যক্তিগত কমিশন বানিজ্যের ব্যাপারটি।
সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমের আরেকটি পরিচয় জানা যাক।
২০২২/২৩ মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের টিভি স্বত্ব কিনেন তার প্রতিষ্ঠান কে-স্পোর্টস। শুধুমাত্র ১ মৌসুমেই তাদের কাছ থেকে স্বত্ব বাবদ ৩৫-৪০ লক্ষ টাকা পায় বাফুফে। কিন্তু লীগ শেষ হওয়ার পরও এই টাকা পরিশোধ করেনি কে-স্পোর্টস। পরবর্তী বছর বহুবার চিঠি দিলেও এই অর্থ না দিয়ে বরং সালাম মুর্শেদির কাছে একটি চেক পাঠান ফাহাদ করিম। আজ পর্যন্ত সে চ্যাক ব্যাংকে ভাঙ্গাতে দেয়নি বাফুফে। আদতে ফাহাদ করিম চ্যাক দিয়েছিলেন কিনা সেটাই সন্দেহ!
ফাহাদ করিম সহ-সভাপতি হওয়ার পর শুধুই আওয়াজ তোলেন, কাজের কাজ কিছুই করেন না- এমন অভিযোগ বেশ কিছুদিন থেকেই আসছিলো। হঠ্যাৎ তিনি ঘোষণা দিলেন গ্লোবাল টেলেন্ট হান্টের। বিভিন্ন বয়সের প্রবাসী ফুটবলারদের ডাকেন দেশে এসে ট্রায়াল দেয়ার জন্য। তার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশে আসেন অন্তত ৪৮ জন খেলোয়াড়। ৩ দিনের ক্যাম্পিং, ট্রায়াল শেষে শুধুমাত্র একটি কাগজের সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে হতাশ হয়ে দেশে ফিরে যান সবাই-ই। ৪৮ জন খেলোয়াড় থেকে কাউকেই নাকি মনে ধরনেই বাফুফের।
এর কারণ অবশ্য ভিন্ন। ট্রায়াল শুরুর আগেই প্রবাসী খেলোয়াড়দের নিয়ে অত্যন্ত বিদ্বেষমূলক আচরণ করেন বাফুফের ট্যাকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু। তার সাথে থাকা এলিট কোচিং প্যানেলের প্রত্যেকেই এ ব্যাপারে নাখোশ ছিলেন। সবচেয়ে মজার ব্যাপার, ফাহাদ করিম ট্রায়াল শুরুর আগেই যে প্রেডিকশন দিয়েছিলেন, সে অনুযায়ী ট্রায়ালের পর হুবহু একই কথা বলেছেন তারা। অর্থাৎ, ফাহাদ করিম ট্রায়ালে এনেছেন, আবার প্যানেলকেও নির্দেশ দিয়েছেন তাদেরকে নির্বাচন না করার! এইযে দ্বিচারিতা, দুমুখো আচরণ, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নীতি- একমাত্র ফাহাদ করিম দ্বারাই সম্ভব!
ট্রায়ালে বেশ কিছু খেলোয়াড় চোখ ধাঁধানো পারফর্ম করেছেন, অথচ কাউকেই জাতীয় দল দূরে থাক বয়সভিত্তিক দলেও ডাকা হয়নি। বাফুফে থেকে কয়েকমাস পরে দুজনকে ডাকার প্রস্তুতি নিলেও, যখন তাদের জানানো হয় কন্ডিশনিং ক্যাম্পে আবারো ট্রায়াল দিতে তাদের ঢাকা আসা লাগবে এবং আবারো নিজেদের খরচে! এই খবরে প্রচন্ডভাবে ভেঙ্গে পড়েন ওই দুজন ফুটবলার।
ফাহাদ করিমের বর্তমান গুরু দায়িত্ব হচ্ছে বাফুফের মার্কেটিং সামলানো। অথচ বাফুফের অফিসিয়াল পেইজ থেকে হামজা চৌধুরির জন্মদিনের পোস্ট পর্যন্ত করা হয়নি এটা ফাহাদ করিমের চোখ এড়িয়ে গেলো কিভাবে বুঝা মুশকিল!
আজ থেকে শুরু হওয়া ঘরোয়া লীগের নেই কোনো স্পন্সর, লগো পর্যন্ত তৈরি করতে পারেন নি ফাহাদ করিম। টিকেট দেয়া হচ্ছে আগের পুরাতন লগো ব্যবহার করেই!
ফাহাদ করিম যে কাজের চেয়ে বলেন বেশি, তার আরেকটা প্রমান জাতীয় দলের খেলা সম্প্রচার করতে বিদেশ থেকে ৪০ টি ডিজিটালাইজ ক্যামেরা কেনা। যে কোম্পানি থেকে এই ক্যামেরাগুলো কেনা হচ্ছে সেটাও হচ্ছে ফাহাদের একান্ত প্রতিষ্টানের প্রেসক্রিপশনে! যে প্রতিষ্টান ফিফার অন্তর্ভুক্ত ই নয়, সেখান থেকে নেয়া হচ্ছে জাতীয় দলের কিট!
সালাউদ্দিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ফাহাদ করিম, আরেক ঘনিষ্ঠ চরিত্র মাহফুজা কিরণকে সাথে নিয়ে বাফুফেতে বর্তমানে যে সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন সেটা এখন প্রকাশ্যে দিবালোকের মতো সত্যে। সালাউদ্দিন পরবর্তী আরেক সালাউদ্দিন হয়ে উঠার সমস্ত চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছেন ফাহাদ করিমেরা। আর তার এই রাস্তা করে দিচ্ছেন খোদ বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল নিজেই!
আবারো বলি, ফাহাদ করিম একজন ব্যবসায়ী মানুষ। ফুটবলের সাথে তার একটাই সম্পর্ক- আর সেটি অর্থবিত্তের! ফুটবলের স্বার্থে তার ব্যক্তিগত কোনো আবদান আগেও ছিলো না, এখনো নেই। যা আছে, তা শুধুই স্বার্থ। যে স্বার্থে কবলে পড়ে আবারো জাগরণের মুখ দেখা ফুটবল খুব তাড়াতাড়ি ই হারিয়ে যাবে…
মানি টকস্ | ফাহাদ করিম। আহমদ আতিকুজ্জামান
