সবার আগে বাংলাদেশ ব্যাংক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকে ক্ষমতা ছাড়ার আগে পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মোট ১৩৩ টি অধ্যাদেশ জারি করানো হয়।

এর মধ্যে প্রথম অধ্যাদেশটি জারি করা হয় একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির জন্য। তিনি হচ্ছেন আহসান এইচ মনসুর।

বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার অনুযায়ী ৬৭ বছরের বেশি বয়সের কেউ গভর্নর হতে পারতেন না। কিন্তু জনাব মনসুরের বয়স তখন ৭২ বছর ৮ মাস।

তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করার জন্য ইউনুস সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ প্রথম অধ্যাদেশটি অনুমোদন করে।

১৩ আগস্ট, ২০২৪ এই অধ্যাদেশ জারি করে গভর্নর পদে নিয়োগের বয়সসীমা তুলে দেওয়া হয়। তারপরে জনাব মনসুরকে গভর্নর পদে নিয়োগ করা হয়।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে পদ থেকে সরানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে যে আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল সেটির কারণ ছিল ৩ কর্মকর্তাকে বরিশাল, রংপুর ও বগুড়ায় বদলি। দাবি করা হয় তাদের বদলি আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে নতুবা গভর্নরকে পদত্যাগ করতে হবে।

তাদের কী কারণে বদলি করা হয়?

এই ৩ কর্মকর্তার বদলি ছিলো শাস্তিমূলক। কারণ তারা নির্বাচনের ৪দিন পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আকস্মিক সংবাদ সম্মেলন ডেকে গভর্নরকে স্বৈরাচার আখ্যা দেন। তাদের মূল আপত্তি ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্স দেয়া, এসআইবিএল ও এক্সিম ব্যাংকে নতুন ৫ ব্যাংকে একিভূত করা।

কর্মকর্তারা কি এভাবে প্রেসে কথা বলতে পারেন?

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্টাফ রেগুলেশন অনুযায়ী গভর্নরের অনুমোদন ছাড়া কোন কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলন, সভা, সেমিনার, বক্তব্য বা বিবৃতি দিতে পারেন না। ফলে এটি বিদ্রোহের শামিল।

এই ৩ কর্মকর্তা কারা? এক্সিম ও এসআইবিএল নিয়ে তারা এত ডেসপারেট মুভ কেন নিলেন?

এই তিন কর্মকর্তা হলেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা।

এই ৩ জনই আওয়ামীপন্থী নীল দলের নেতা। গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের নির্বাচনে নীল দল নিরঙ্কুশ বিজয় পায়। ১৫টি পদের মধ্যে সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদ পায় আওয়ামীলীগ ও ১ টি পায় বিএনপিপন্থী সবুজ দল। স্বতন্ত্র পায় বাকি ৪টি।

আওয়ামী লীগের আমলে এক্সিম ব্যাংক কুক্ষিগত ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান দরবেশ বেশধারী বদমাশ নজরুল ইসলামের মজুমদারের কাছে এবং এসআইবিএল ছিল এস আলমের কাছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে এখনো আওয়ামীপন্থীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই এসআলমসহ অন্যান্য লুটেরারা বিগত দুই দশকে ব্যাংকগুলো খালি করতে পেরেছিলেন।

আপডেট হলো নতুন গভর্নর নিয়োগের পর বদলিকৃত ৩ কর্মকর্তার বদলি আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ফলে এটা অনুমান করা কি ভুল হবে যে আন্দোলনের নামে গভর্নর ও তার উপদেষ্টার বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি এবং এর আগে বিদ্রোহ, একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ—এসবকিছুই এস আলম গ্রুপের সাথে যোগসাজশে ঘটেছে? পুরো ঘটনা প্রবাহে সরকারের সায় কি স্পষ্ট নয়? নাহয় নির্বাচনের পরপরই ৩ কর্মকর্তা বিদ্রোহ করে বসলেন কিভাবে? গভর্নর ভালনারেবল, এই ইঙ্গিত পেয়েই কি?

তবে কি অর্থনীতির মেরুদন্ড ব্যাংকিং খাতে লুটেরারা আবারও হামলে পড়বে?

দেখতে থাকি।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সম্পর্কে যা যা জানা গেল:

১. তিনি একজন বিশিষ্ট সোয়েটার ব্যবসায়ী। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ব্যবসায়ী হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে তিনি ব্যবসায়ী সমাজের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।

২. তিনি একজন (সাবেক) ঋণ খেলাপী। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে তার ৮৯ কোটি ২ লাখ টাকার ঋণ খেলাপি ছিল।

তবে গত বছরের জুনে ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে বিশেষ বিবেচনায় ১০ বছরের জন্য পুনঃতপশিল করা হয়েছে।

অবশ্য তিনি দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছরের জন্য পুনঃতপশিল চেয়েছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ বছরের জন্য পুনঃতপশিল অনুমোদন করে।

৩. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো গভর্নর সাহেব ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ২৩ তম সদস্য ছিলেন।

দুইদিন ধরে ভয়াবহ মব চলতেছে বাংলাদেশ ব্যাংকে৷ মবের তোপে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আজকে অফিস ছেড়ে চলে যেতে বাধ্যও হয়েছেন।

দোষ কী গভর্নরের? আওয়ামী দুর্বৃত্তদের ব্যাংক ফ্রিজ করে রেখেছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর৷ লুটেরা ব্যবসায়ী, টাকা পাচারকারী, ঋণখেলাপি সবার একাউন্ট ফ্রিজ করেছেন তিনি৷

ইন্টেরিমের পুরো সময় কোন তদবির তিনি শুনেন নাই৷ আইনে বৈধতা ছাড়া কোন ব্যবসায়ী একাউন্ট ফিরে পায় নাই৷

এত কঠিন নিয়ম ও নীতি তো বিএনপির সময় খাটতে পারে না৷ এখন বিএনপি নেতারা তদবির করবে, আর ঠাস ঠাস সব একাউন্ট খুলে যেতে হবে৷

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএনপিপন্থী কর্মকর্তারা সুপারিশ নিয়ে যাবে, কিন্তু গভর্নর নিয়মের কথা শুনাবে— তা তো হবে না৷ দেশ এখন বিএনপির মল্লুক৷

গভর্নরের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হোক বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে৷ বিএনপির প্রতি ফুল সাপোট।

জনপ্রিয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *