সাফ ঘিরে বাফুফের স্ট্যান্টবাজি, দিনশেষে জয় সিন্ডিকেটের!

সুরাজ সিং ঠিক যেন আকাশ থেকে পড়লেন!
সেকেন্ড দশেক আগেও ডি-বক্সের ভেতরে বলে কিক করার জন্য দাঁড়ানো খেলোয়াড়ের চোখে চোখ রেখে পরাস্ত করার ছক কষছিলেন। কিন্তু এ কি কান্ড করলেন রোনান? সুরাজকে ঠিক কতটা বেকায়দায় পরাস্ত করলেন- তার সঠিক কোনো সমীকরণ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। শিরোপা জয় কিংবা হাতছাড়া; খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে রোনান কিনা নিলেন পানেনকা? অবিশ্বাস্য। দুর্দান্ত। অবিস্মরণীয়। অবিসংবাদিত। অকল্পনীয়। মাথা নষ্ট।

সাফ অনুর্ধ-২০ দলের হয়ে বাংলাদেশের যাত্রাটা শুরু হয়েছিলো পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে। দুর্দান্ত, প্রাণবন্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে দু’হাত মেলে দর্শক বরাবর দৌঁড়ানো রোনানের যাত্রাটা থেমে যেতে পারতো ফাইনালের সেই মূহুর্তে। রোনান সেদিন করলেন ২ গোল, ফাইনালে তার পা থেকেই এলো শিরোপার স্বাদ। দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ।

জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক। তৃণমূল থেকে শহুরে, মেট্রোপলিস থেকে চায়ের টংয়ে; খবরের কাগজ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে- শিরোনামে কেবলই জয়ের খবর। জয়ী বীরেরা ফিরো এলো দেশে। ছাদ খোলা বাসে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হলো। ব্যস্ত শিডিউল। রোনান- ডেক্লানদের ডাকা হচ্ছে নিউজ রুমে। ব্যস্ততা ঘিরে আছে তাদের সারাক্ষণ। এই যখন অবস্থা- আমরা ভুলে যাচ্ছি বেশ কিছু বার্তা। যা বলা হয়নি, যা দেখানো হয়নি- কিংবা যা দেখেছেন, শুনেছেন- হয়তো বেখেয়ালি মন মিস করে গেছে কিছু! আজকের এই ‘কেইস স্টাডি’তে থাকছে জবাব সেসব কিছুর।

১.
শুরু করা যাক বাফুফের স্ট্যান্টবাজি দিয়ে।
মালদ্বীপে সাফ অনুর্ধ-২০ দলকে পাঠানোর আগে দল চূড়ান্তের শুরুটাই হয়েছে একটি ভাওতাবাজি প্রক্রিয়ায়।

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ সালে বাফুফে সহ-সভাপতি জানিয়েছিলেন আসন্ন অনুর্ধ-২০ সাফ দলের ক্যাম্পে থাকবেন সুলিভান ভাতৃদয় ছাড়াও আরো ৬ প্রবাসী ফুটবলার। ৩১ সদস্যের দলে তাদের নামও দেখা গেলো। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে ট্রায়াল দেয়া ও লাতিন-বাংলা টুর্নামেন্ট খেলানো আব্দুল কাদির, বীতশোক চাকমা, ইব্রাহিম নাওয়াজ- আমির সামি ছাড়াও ফারজাদ আফতাব এবং সুশ্রুত মন্ডল। যশোরের ক্যাম্পে তাদের সবার থাকার কথা থাকলেও ক্যাম্প শুরুর একদিন আগে টিম ম্যানেজারের সামিদ কাশেমের বরাতে জানা গেলো ফ্লাইট জটিলতায় বীতশোক চাকমা ও আব্দুল কাদির বাংলাদেশে আসতে পারবেন না। পাশাপাশি সুশ্রুত মন্ডল ইঞ্জুরিতে পড়েছেন, তাই তিনিও দলে থাকবেন না।

২৩ জনের পূর্নাঙ্গ স্কোয়াড ঘোষণার সময় দেখা গেলো রোনান ও ডেক্লান সুলিভান ছাড়া শুধুমাত্র ইব্রাহিম নাওয়াজ আছেন। আমির সামি, ফারজাদ আফতাব বা বাকিদের কেউ-ই নেই।

বীতশোক ও আব্দুল কাদিরকে ফ্লাইটের দোহাই দিয়ে বাদ দেয়া ও সুশ্রুত মন্ডলকে ইঞ্জুরি দেখিয়ে বাদ দেয়া ছিলো পুরোটাই স্ট্যান্টবাজি। মূলত, তাদের নিয়ে বাফুফের প্লানই ছিলো না। আমির সামি ও ফারজাদকে না রাখার পিছনে কোনো ব্যাখ্যা কোথাও পাওয়া যায়নি।

২.
অনুর্ধ-২০ দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে খেলে কারা?

সাফ অনুর্ধ-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের ১ জানুয়ারি ২০০৭ কিংবা তার পরে জন্ম তারিখ থাকতে হয়- সাফের এলিজিবিটি অনুযায়ী। বাংলাদেশ অনুর্ধ-২০ দলের একাধিক খেলোয়াড় এই ক্রাইটেরিয়া মান্য না করেই এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন।

চন্দন রয়ের ১৮, মুর্শেদ আলীর বয়স দেখানো হচ্ছে ১৭, নাজমুল হুদা ফয়সালের ১৬!

অথচ মুর্শেদ ২০২২ সালের পর থেকে অনুর্ধ-১৭ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছে ৩ বার, নাজমুল ফয়সাল খেলেছে ৪ বার। ২০২২ সালেও ফয়সাল ১৬ বছর দেখিয়ে অংশ নিয়েছিলো অনুর্ধ-১৭ দলের কম্পিটিশনে।

তাহলে কি দাঁড়ালো?
২.১ > ওয়ান্ডারবয় ফয়সাল ১২ বছর বয়সেই অনুর্ধ১৭ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছে?

২.২ > কিংবা ফয়সাল তার আসল বয়স গোপন করে ১৬ বছরের আদুভাই সেজে এখনো অনুর্ধ-২০ দলে খেলছে?

২.৩ > মুর্শেদ ২০২২ সাল থেকে অনুর্ধ-১৭ তে ১৩ বছর বয়স থেকেই খেলছে, এখন যদি তার বয়স ১৭ হয়, বাফুফের এলিট একাডেমির অনুর্ধ-১৫ দলের হয়ে ২০২১ সালে কিভাবে খেললো?

২.৪ > চন্দন রায় কি অনুর্ধ-২০ দলের খেলোয়াড়? ২০২১ সালে এলিট একাডেমি থেকে শুরু, ‘২৪ এ এসে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ইতিমধ্যেই খেলা হয়ে গেছে ৪টি ম্যাচ। আমির সামি যেখানে সহজেই এই টুর্নামেন্টে খেলতে পারতেন, সেখানে চন্দন রায়কেই খেলাতে হলো?

২.৫ > বয়স কমিয়ে সাফের অনুর্ধ-২০ সংস্করণে অংশ নিয়ে শিরোপা জেতা খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ কি? তারা কি আবারোও একই দলে বারবার সুযোগ পাবেন, নাকি পরবর্তী আসরে বাদ পড়বেন? বাদ পড়লে ভবিষ্যতে তাদের অবস্থান কোথায়?

৩.
রোনান- ডেক্লান স্টারডম : প্রত্যাশা- হতাশা।

নিশ্চিতভাবেই সাফের এই আসরটি স্পেশাল ছিলো বাংলাদেশি ফুটবল ভক্তদের জন্য। তার প্রধানতম কারণ সুলিভান ব্রাদার্স। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে রোনান ও ডেক্লানের অভিষেক, সূদুর ফিলাডেলফিয়া থেকে অচেনা ঢাকা। রোনানের গোলে টুর্নামেন্ট শুরু, রোনানের গোলে টুর্নামেন্ট শেষ। তবে এর মাঝখানে ঘটে গেছে অনেক ব্যাপার।

রোনান সুলিভান প্রতিটা ম্যাচেই শুরু করলেও ডেক্লানকে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অবহেলার স্বীকার হতে হয়েছে। ম্যাচে ৩/৪ টা সাবস্টিউশন করানো হলেও ডেক্লানকে মাঠে নামিয়ে দেখার কথা ভাবেন নি কোচ। ফাইনালে অবশ্য তাকে দ্বিতীয়ার্ধে নামানো হয় এবং বেশ কিছু সময় খেলানো হয়।

রোনান- ডেক্লান স্টারডমে অবস্থা যখন টালমাটাল, বেঞ্চে একা বসে আছেন আরেক দারুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড় ইব্রাহিম নাওয়াজ। নাওয়াজের প্রতি যে অন্যায় করা হয়েছে, তা বোধহয় লিখে শেষ করা সম্ভব না।

ম্যাচ শেষে লাতিন-বাংলা চ্যানেলে ইব্রাহিম তার আক্ষেপ তুলে ধরেছেন- সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয়ই আমার জন্য অন্য কিছু রেখেছেন। এবার হয়তো সুযোগ পাইনি, তবু আমি হৃদয়ে বাংলাদেশ ধারণ করি এবং এই দর্শকদের আকুন্ঠ সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ দিতে চাই- ইব্রাহিম নাওয়াজ বলেন।

পুরো টুর্নামেন্টে সুলিভান ভাইদের ছায়ার নিছে অন্ধকারে পড়ে থাকছে হয়েছে ইব্রাহিম নাওয়াজকে। শিরোপা জিতে যখন ছেলেরা দেশে ফিরেছে ছাদখোলা বাসে; রাতে সুলিভানেরা পেয়েছেন হাতিরঝিলে সংবর্ধনা; ঘুম থেকে উঠে পরদিন অন্তত ৩ টা জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার/আলোচনায় অংশ নিয়েছেন রোনান-ডেক্লান। সেখানে কোথাও ইব্রাহিম নাওয়াজকে দেখা গেল না।

মিডিয়া হাইপ নেই, ভক্তরা রোনান-ডেক্লানেই খুশি। ইব্রাহিম নাওয়াজ একটি বেদনার অভিজ্ঞতা নিয়ে ইংল্যান্ডে ফিরবেন। সম্ভবত সব চ্যাম্পিয়নদের সবখানে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায়না- কিছু কিছু জায়গায় তাদের অবস্থানকে শূন্যে বিবেচনা করা হয়।

৪. কোচিং প্যানেল- ম্যানেজমেন্ট : কি পেলাম, কি দেখলাম?

সাফ শুরুর আগে মার্ক কক্সকে মাত্র ১ মাসের কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এমন আজগুবি নিয়োগ পৃথিবীতে বিরল। শুনা গেলো তিনি কনসালটেন্ট কোচ, থাকবেন ছোটনের সাথে ডাকআউটে। পরে এই ব্যাপার ক্লিয়ার করতে সংবাদ সম্মেলন; জানানো হলো ছোটন নয়, কক্স-ই প্রধান কোচ। সহকারী কোচ মিশু, টিম ম্যানেজার ‘দ্যা এলিট খ্যাত সামিদ কাশেম’।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়, ইন্ডিয়ার সাথে ১-১ এ ড্র এবং নেপালের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়। ফাইন্বলে গোলশূন্য থেকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয়। এই পুরো যাত্রায় প্রধান কোচ মার্ক কক্সের ভূমিকা কি ছিলো তা আমার বোধগম্য নয়। পুরো টুর্নামেন্ট ডাগআউট থেকে পরিচালনা করেছেন সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু। এবং প্রত্যেক ম্যাচেই আমরা তার মাষ্টারক্লাস দেখেছি (পড়তে পারেন ব্লান্ডার)।

পরিসংখ্যান বলছে আমরা ০-১৫ মিনিটে ১ গোল দিয়েছি, ৪৫-৭০ মিনিটের ভেতরে গোল দিয়েছি ২ টি। অর্থাৎ, দ্বিতীয়ার্ধে অধিকাংশ খেলোয়াড় ইঞ্জুরিপ্রবন হয়ে উঠেন কিংবা ক্লান্ত হয়ে পড়েন তবুও আমরা গোল দিতে সক্ষম। এমন অবস্থায় ইব্রাহিম নাওয়াজের মতো ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডার যখন বেঞ্চে বসে থাকে, তখন মিশুর মাষ্টারক্লাস সম্পর্কে আর কিছুই বলার থাকেনা।

কোচ মার্ক এডওয়ার্ড কক্সকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রতারণা করেছে বাফুফে, তা হলো তাকে জেনেশুনেই মাত্র ১ মাসের জন্য নিয়োগ দিয়েছে। এবং সাফ পরবর্তী তাকে নাও রাখা হতে পারে। মিশুকে দিয়ে এই এসাইনমেন্ট যেহেতু পার করা গেছে, সেহেতু তাকেই ফিক্সড করার একটা ধুরন্ধর পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করবে বাফুফে। মিশু স্পষ্টই দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেন। কক্স একজন নিম্নবর্গের মানুষ; চাটুকারিতার স্বভাব তার মধ্যে প্রবল। পেশাদারিত্বের মান শুন্যের কোটায়। মিশু ও সামিদ কাশেমের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তার দুইটা কথা বলার জো নাই। এমতাবস্থায়, কক্স শুধুই একজন খেলনা পুতুল। তাকে তড়িঘড়ি করে ধরে এনে সবাইকে মূলত আইওয়াশ করেছে বাফুফে।

৫. ছোটনের পুত্ররা:

নাজমুল ফয়সাল প্রথম ম্যাচেই সমালোচনার মঞ্চ তৈরি করেছে রোনানকে ফ্রিকিক নিতে বাঁধা দিয়ে। সে নিতে চাচ্ছিলো ফ্রিকিক তা স্পষ্ট। মুর্শেদকে বল পাস দিলেও রোনানকে সে পাস দিবেনা। প্রয়োজনে বল নষ্ট করবে তাও রোনানকে সে দেখবেনা। এমন নাটকের সাথে ভক্তরা আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন। রিয়াসাত খাতুন কিংবা আরহামের সাথে কি ঘটেছে ইতিপূর্বে তা সবার জানা। আরহামকে এক প্রকার ছুড়েঁ ফেলেছে একটা গোষ্টি, যারা মাঠে ফুটবল খেলার কথা বলে অথচ দলবাজি ও কোরামে ব্যস্ত থাকে সারাদিন।

গোলকিপার মাহিন, ডিফেন্ডার ইউসুফ আলীরা তাদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন বলাই বাহুল্য। কিন্তু তাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ কিছুটা সেল্ফিসও ছিলেন বটে। শিরোপা উদযাপনের একটা ক্লিপ ভাইরাল হলো- স্পষ্ট দেখা গেলো রোনানকে ইগ্নোর করা হচ্ছে। তাকে ট্রফি ছুঁতে দেন নি মিঠু চৌধুরী। অথচ ঘটনা হওয়ার কথা ছিলো ভিন্ন- রোনানদের জোর করে সামনে নিয়ে এসে আরোও বেশি উদযাপন করে দেখিয়ে দেয়া প্রয়োজন ছিলো; আমরা সবাই সমান।

মিঠু চৌধুরী গতকাল এক সাক্ষাৎকারে বলেছে, প্রবাসী ও দেশী খেলোয়াড়দের সমান চোখে দেখতে। ভক্তরা তো এক চোখেই দেখে। ভেদাভেদ, বিভাজনটা তো খেলোয়াড়রাই করে। এই অবস্থান পরিত্রাণ পাওয়া না গেলে ভবিষ্যতে রোনানদের খেলা কষ্টকর হয়ে যাবে নিঃসন্দেহে।

৬. ছাদখোলা বাস, মুক্তমঞ্চে সংবর্ধনা:

বাংলাদেশ অনুর্ধ-২০ দল কিন্তু ২০২৪ সালেও শিরোপা জিতেছিলো। ‘২৬ এ এসে শিরোপা জেতার পর তাদের ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা দিতেই পারে কর্তৃপক্ষ- কিন্তু প্রশ্নটা যখন প্রাপ্তির; উত্তর তখন শূন্য! ২০২৪ সালে খেলোয়াড়দের বর্তমান অবস্থা কি? তাদের কতজনের নাম আমরা মনে রেখেছি, তাদের কতজন জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য লড়াই করছে- এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কারো জানা নেই।

নির্দিষ্ট বয়সের বেশি বয়সের খেলোয়াড়দের দিয়ে এমন বয়স ভিত্তিক শিরোপা জেতা আহামরি কিছুই না; ব্যাপারটা এমন গৌরবেরও কিছু না। তবু চ্যাম্পিয়ন মানেই চ্যাম্পিয়ন, বলার অপেক্ষা রাখেনা।
কিন্তু এই চ্যাম্পিয়নদের থেকে কতজন আগামীতে অনুর্ধ-২৩ কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন, এমন ফিল্টারিংয়ের দায়িত্ব নিবেটা কে? নাকি শুধুই একটা শিরোপা, লাখ মত টাকা পুরষ্কার, ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে আগামীর সম্ভাবনা?
প্রশ্ন থাকলো- উত্তর কেবল দিতে পারবে সময়ই..

৭. জয় সিন্ডিকেটের জয়:

শিরোপা জিতে ঘরে ফিরেছে বাংলাদেশ অনুর্ধ-২০ দল, সাথে সিন্ডিকেটও। টিম ম্যানেজমেন্টের কোরামবাজী, পছন্দের খেলোয়াড়দের সুবিধা দেয়া এবং ভক্তদের প্রত্যাশাকে জলাঞ্জলি দেয়াকে মূলত সিন্ডিকেটের জয় হিসেবেই দেখা যেতে পারে। শুরুটা যেভাবে হয়েছিলো, প্রবাসী খেলোয়াড়দের মাইনাস করার পরিকল্পনা দিয়ে, তা এই সিন্ডিকেট কড়ায় গন্ডায় পালন করেছে। শুধুমাত্র রোনানকে দলে রেখে মিডিয়া পাড়া ব্যস্ত করাও একটা স্ট্রাটেজি। অথচ এখন পর্যন্ত কেউ এই প্রশ্নটুকুই করলোনা- যারা বাদ পড়লো তাদের নিয়ে বাফুফের পরিকল্পনা কি? তারা কি আগামীতে খেলতে পারবেন? তাদের কিভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে দলে? নাকি এই পুরো ব্যাপারটিই লোক দেখানো স্ট্যান্টবাজি? প্রবাসীদের নাম রাখলেই পিআর, মিডিয়া, স্পন্সর- কিন্তু তাদের মূল দলে রাখবোনা। আবার মূল দলে রাখলেও খেলার সুযোগ দিবোনা। এ কেমন দ্বিচারিতা, এ কেমন নোংরামি? দিনশেষে সিন্ডিকেট জয়ী হয়- ভক্তদের থাকে শুধুই হতাশা।

পরিশেষে আবারও বলি- পুরো টুর্নামেন্ট ঘিরেই অসংখ্যা স্টান্টবাজি করেছে বাফুফে, বায়াসড ছিলো কিছু খেলোয়াড়ের প্রতি। ইচ্ছে করেই অবহেলা করা হয়েছে নাওয়াজ- ডেক্লানদের মতো প্রতিভাদের। দিনশেষে শিরোপা ঘরে এসেছে ঠিকই- কিন্তু পরিকল্পনায় কেবলই রোনান-ডেক্লান থাকলে আগামীতে আসবে কি আর কোনো প্রবাসী?

সাফ ঘিরে বাফুফের স্ট্যান্টবাজি | কেইস স্টাডি |

জনপ্রিয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *