Author: আহমদ আতিকুজ্জামান

  • ‘মত’ প্রকাশ করবে কারা?

    একটা দেশের জনগনের মত প্রকাশের সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম সংবাদমাধ্যম। হালের বিবর্তনে কাগজের সংবাদপত্রের ব্যবহার দিনদিন কমে আসলেও জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি একটুও। এখন ডিজিটাল যুগ। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ডিজিটাল নেটওয়ার্কভিত্তিক টিভি চ্যানেল ও লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সর্বোচ্চ সুযোগটা ব্যবহার করছে বাংলাদেশ। তবে আশ্চর্যের বিষয় একসময় যে সংবাদ মাধ্যমগুলো পরিচিত ছিলো সরকারের সমালোচনা, পক্ষপাতহীন ও নিরপেক্ষ, আজ…

  • ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ : গনতন্ত্র থেকে একনায়কতন্ত্র!

    ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ : আওয়ামিলীগ কতটুকু বদলেছে? স্বাধীনতার পর দেশে ১ম নির্বাচন। দেশজুড়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। সেবার ক্ষমতার অপব্যবহার না করলেও পারতেন মুজিব; পরাজিত হওয়ার সম্ভবনাও ছিলো ক্ষীণ। অথচ ব্যাপক অনিয়ম, ব্যালট বাক্স চুরি, মনোনয়ন কেলেংকারি আর জ্বালাও পোড়াও করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চাইলেন তিনি। স্বাধীনতার পরেই বিরোধীদের ন্যুনতম সহ্য করার সহ্য…

  • জহির রায়হান ও ‘গুম’ অধ্যায়ের সূচনা।

    জহির রায়হান তথাকথিত স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম এবং সহজাত পরিহাস দেশ যখন তার চাওয়ামত স্বাধীন হলো তখন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ‘গুম’ হওয়া ব্যক্তি হয়ে গেলেন তিনি স্বয়ং। অর্থাৎ জহির রায়হানকে দিয়েই স্বাধীন(!) বাংলাদেশে গুমের মতো একটি জঘন্য রাজনৈতিক চক্রান্তের সফল অভিষেক হয়। ১৯৭২ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৭ বছর আমাদের বিশ্বাস করানো…

  • স্বাধীনতার পর প্রথম সংসদ নির্বাচন কেমন ছিল?

    ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন করা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং এর প্রধান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। এ সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বেশ কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্তও নিয়েছিল। এক বছরের মধ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন এবং দ্রুততম…

  • আমার পরিচয় কি?

    আমি আহমদ আতিকুজ্জামান। সামান্য একজন ফুটবল ভক্ত। তবে তার পাশাপাশি লেখালেখিটাও ভালোবাসি। এশিয়ার সর্ববৃহৎ স্পোর্টস প্লাটফর্ম ‘প্যাভিলিয়ন’ এর পাশাপাশি বাংলা ভাষায় সর্ববৃহৎ ব্লগিং প্লাটফর্ম ‘সামহোয়ারইনব্লগ’ এর সাথেও যুক্ত আছি। জন্মস্থান সিলেটে, বর্তমানে বসবাস ইংল্যান্ডের লন্ডনে। মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী, এক ছাদের পৃথিবী হোক- এই কামনা করি। বই পড়তে ভালোবাসি। ফুটবলে আমার প্রিয় দল ব্রাজিল আর…

  • কাঁদতে আসিনি; ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি…

    গুলি চলেছিল ঢাকায়, কিন্তু একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে প্রথম কবিতাটি লেখা হয়েছিল চট্টগ্রামে। লিখেছিলেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী। তিনি। ছিলেন চট্টগ্রামের সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক। কবিতার নাম ছিল ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’। ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি যেন সফল হয়, তার জন্য চট্টগ্রামের নেতা–কর্মীরা কারখানায়, গ্রামেগঞ্জে প্রচার চালিয়েছিলেন। ২০ ফেব্রুয়ারি মাহবুব উল আলম চৌধুরী অসুস্থ…

  • |

    মামলার সাক্ষী ময়না পাখি | শাহাদুজ্জামান

    প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘মামলার সাক্ষী ময়না পাখি’ বইটি লেখক শাহাদুজ্জামান উৎসর্গ করেছেন মিথিলা ফারজানা ও জ্যোতি জয়েনউদ্দীনকে। উৎসর্গপত্রটা দারুন। লেখক ছোট্ট করে অথচ কত সুন্দর করে লিখেছেন, ‘দেখে ভালো লাগে তুমুল ব্যস্ত মেট্রোপলিটান হিজিবিজি জীবনেও সাহিত্য তোমাদের টানে..  ক্লাস সিক্স থেকে নতুন ক্লাসে উঠার পর নতুন বই পাওয়া মাত্র আমি সর্বপ্রথম যে কাজটা বাসায়…

  • আইসিইউ করিডোরে কাটানো ভয়ানক দিনগুলো…

    হাসপাতালগুলোর এই এক ভালো দিক; তারা আইসিইউ এর মতো কক্ষগুলো সাধারণ ক্যাবিন কিংবা ওয়ার্ডের ফ্লোরে রাখেনা। আইসিইউ থাকে উপরের দিকের ফ্লোরগুলোতে। সেখানে কোলাহল নেই। খুব বেশি মানুষজনও থাকেনা। মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের দেখতে আত্মীয়স্বজন’রা ঠিক ই আসে; একনজর দেখে চলে যায়। আইসিইউ থাকার জায়গা না। আইসিইউ এর বারান্দায় বসে আছি। শুনশান নিরবতা চারিদিকে। ফ্লোর জুড়ে ফিনাইল এর…

  • পিস্তল

    বাবাকে বললাম, পিস্তল কিনব।উনি ধমকের স্বরে বললেন, কী? আমি সাহস হারিয়ে ফেললাম। জানতাম রাত দিন কাঁদলেও উনি আমাকে পিস্তল কিনে দেবেন না। গত দুই বছর ধরে এ আবদারের এমনই জবাব দিতেন তিনি। আমি আশাহত হয়ে ভাবতাম, আর একটু বড় হই। তাহলে হয়ত আর না করতে পারবেন না। ওয়ান, টু পেরিয়ে ক্লাস থ্রিতে পড়ছি। অথচ বাবার…

  • পুলিশ কোন চ্যাটের বাল?

    আর ৫-৭ টা দিনের মতোই কলেজ শেষে বাড়ি ফেরার জন্য অপেক্ষা করছিলো ছেলেমেয়েগুলো। কিন্তু তাদের জন্য দিনটি মোটেই বাকি দিনগুলোর মতো অনিন্দ্য সুন্দর ছিলোনা। প্রতিযোগিতা করতে থাকা ২ টি বাস রাস্তা পার হতে থাকা ছাত্রছাত্রীদের উপর তুলে দিয়েছিলো গাড়ির চাকা! ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। মুহুর্তেই ঝরে গেলো আগামির ভবিষ্যৎ ২ টি তরতাজা প্রাণ! আচ্ছা, মৃত্যু…

  • মর্গ থেকে বলছি..

    মর্গে নিথর একটা দেহ পড়ে আছে। আমাদের ভাষায় যার পরিচয় কেবলমাত্র “লাশ”। অথচ কিছুক্ষণ আগেও তার নাম ছিল, পরিচয় ছিল, ছিল ধর্মের জাত-পাত। এখন তার পরিচয় একটাই, লাশ! লাশটার মুখের চারপাশে মাছি ভনভন করছে। কোন সাড়া নেই, কোন শব্দ নেই। একমনে আধোখোলা চোখ দিয়ে কি যেন দেখছে আর হয়তো ভাবছে অনেককিছু, কত মায়া জড়ানো ছবিগুলো…

  • তারাও মানুষ ; তবে অসাধারণ ….

    প্রতি সন্ধ্যায় আমি গলির শেষ মাথায় চায়ের টঙে কিছু কিছু ছেলেকে দেখি। ক্লান্ত, ঘামে ভেজা, শহরের কালো ধোঁয়া সেপ্টে থাকা তাদের দেহ থেকে তখন এক্স, ফগ পারফিউমের সুগন্ধ ছড়ায় নাহ্,ফ্যামিলিকে সুখে রাখার অফুরন্ত পরিশ্রমের বিদঘুটে গন্ধ থাকে তাতে! ছেলেগুলোর অনুপ্রেরণার জন্য কোনো মহান ব্যাক্তির জীবণীতে চোখ বুলানো লাগেনা, আট বছরের ছেলেটির রাস্তায় রাস্তায় বোতল কুড়ানো…