অল দ্যা প্রেসিডেন্ট’স ম্যান

দ্যা ওয়েস্টিন হোটেল, ঢাকা।
২০১৮ সালের এপ্রিলের এক সন্ধ্যা। ওয়েস্টিনে দারুণ এক আয়োজন। মঞ্চে এসে দাঁড়ালেন তৎকালীন সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি। তোয়াফেল আহমেদ, বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে আছেন তিনি। এই অনুষ্টানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছেন। আয়োজন করেছে একটি বিদেশী প্রতিষ্ঠান, যারা দেশের বাজারে ঢুকেছে বেশিদিন হয়নি। তোয়ায়েলের সাথে এই অনুষ্টানে উপস্থিত আছেন দেশি-বিদেশি বেশ কিছু অতিথি।

অনুষ্টানের আয়োজন করেছে যে প্রতিষ্ঠান, তার কো-ফাউন্ডার ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সারাজিন কাজী। সারাজিনের অন্য পরিচয়, তিনি তৎকালীন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দীন আহমেদের মেয়ে। মূলত, কাজী সালাউদ্দীনের একান্ত আমন্ত্রনেই এই অনুষ্টানে যোগ দিয়েছেন তোয়াফেল আহমেদ।

সারাজিন যে প্রতিষ্ঠানটি চালান, তার অন্য ফাউন্ডার হচ্ছেন ‘আলেক্সান্ডার ব্রার্টজলার’, সম্পর্কে যিনি সারাজিনের স্বামী। অর্থাৎ কাজী সালাউদ্দীনের মেয়ে জামাই। তাদের প্রতিষ্টানের ‘হট-কেক’ প্রোডাক্ট হচ্ছে SAP (System Analyse Programmentwicklung)। জার্মান এই প্রতিষ্টানকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা, কাজের সুযোগ করে দেয়া ও ফান্ডিংয়ের সমস্ত কাজটুকু সরকারের সাথে থেকে, সরকারের সাহায্যে নিয়ে করেছেন কাজী সালাউদ্দীন।

তোয়ায়েল আহমেদের সাথে কাজী সালাউদ্দীনের দরহম-মরহম সম্পর্ক বহুদিনের। এদিকে শেখ জামালের বন্ধু হিসেবে পরিচিত কাজী সালাউদ্দিন, তার মেয়ে আবার সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ছোটবেলার বান্ধবী। তাদের বেড়ে ওঠা ও স্কুল- কলেজ, বাড়িঘরে যাতায়াত ছিলো সহজ স্বাভাবিক ঘটনা। বাফুফে সভাপতি হওয়ার জন্য সংগঠক হিসেবে যতটুকু সাহায্য পেয়েছেন, তারচেয়ে বেশি পেয়েছেন শেখের বেটির একান্ত অনুকম্পায়।

২০০৮ সালে বাফুফে সভাপতি হয়েছেন সালাউদ্দিন; তার পিছনে একজনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য- রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিকী ববি, যিনি শেখ রেহানার পুত্র। ববি সিদ্দিকীর আশ্রয়-প্রশ্রয়েই ফুটবলাঙ্গন তথা ক্রীড়াঙ্গনে একজন দানবে পরিণত হয়েছিলেন সালাউদ্দিন। বাফুফে সভাপতি হিসেবে তিনি হেন কোনো দূর্নীতি নাই করেন নি। ফ্যাসিস্ট আমলের পুরোটা সময়েই তিনি অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটে ব্যস্ত ছিলেন। স্বজনপ্রীতি, আত্মীয়করণ ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বাফুফের সর্বেসর্বা হওয়ার পাশাপাশি নিজের ক্ষমতা দিনকেদিন কেবল বৃদ্ধিই করেছেন। ২০১৬ সালের দিকে সাবেক দুই প্রখ্যাত ফুটবলার বাদল রায় ও শামসুল আলম মঞ্জু সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ৩৮০ পৃষ্টার অভিযোগ পাঠান ফিফা ও এএফসির কাছে। সালাউদ্দিন এইসবের থোড়াই কেয়ার করেছিলেন; উল্টো বাফুফের সব অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব থাকা বাদল রায়’কেই চিরদিনের জন্য বাফুফে থেকে মাইনাস করার সকল চেষ্টা তিনি করে গেছেন এবং একটা সময় সফলও হয়েছেন।

কি আছে সেই ৩৮০ পৃষ্টার অভিযোগপত্রে? এখানে সব তুলে ধরা অসম্ভব হবে। তবে কয়েকটি উল্লেখ না করে পারছিনা;

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ, ইউরো টিকিট কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে ফুটবল একাডেমি প্রকল্প, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সম্প্রচার সরঞ্জাম ভাড়ার নামে ২ লাখ ৯০ হাজার ডলার আত্মসাৎ, ইউরো ও বিশ্বকাপের টিকিট ব্যবসা; ফিফা ও এএফসি থেকে কমদামি টিকিট এনে দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি! সিলেট বিকেএসপি একাডেমির জন্য ৭ লাখ ডলার অনুদান, ফিফা সভাপতির একদিনের খরচ ৯০ লাখ টাকা কিংবা সরকারের দেওয়া ২০ কোটি টাকাও উধাও। অভিযোগের পরিমান এতো বেশি যে বলে শেষ করা যাবেনা।

এতসবের ভীড়ে বাফুফে সভাপতি সালাউদ্দিনের আরেকটি সম্ভাবনাময় ব্যবসা ছিলো বিদেশি কোচ এনে বছরখানেক পরে বিদায় করে দিয়ে টাকা পরিশোধ না করা।

২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করছিলেন ইংলিশম্যান জেমি ডে। তার নেতৃত্বে ২০১৮ এশিয়ান গেইমে চমক ও সাফ চ্যাম্পিয়নসশীপে দারুণ ফুটবল উপহার দেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ জাতীয় দল ও অনুর্ধ-২৩ দলের হয়ে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছিলেন জেমি ডে, তবে তা আর হয়ে উঠে না সালাউদ্দিন গং এর কূটবুদ্ধির কবলে। চাকরি হারাতে হয় তাকে।

২০২২ সালের শুরুতেই জেমি ডে পরবর্তী কোচ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে বসে নির্বাচক প্যানেল। কাজী নাবিল, আবু নাইম সোহাগ’দের হাতে সেদিন বিস্ময়কর একটি প্রোফাইল। যে কোচ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার আন্তর্জাতিক ফুটবলে উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য দূরে থাক, জাতীয় দল পরিচালনার কোনো রেকর্ডই নাই! তবু সেদিন, সবার মতামতকে অগ্রাহ্য ও অবাক করে দিয়ে সালাউদ্দিন জানান, কোচ হিসেবে তাকেই আনা হবে এবং এ নিয়ে তিনি কোনো কথা শুনতে চান না।

নির্বাচক প্যানেল বেশ অবাক হয়েছিলেন সালাউদ্দিনের এমন সিদ্ধান্তে। সবার মতামতের বিরুদ্ধে গিয়ে সালাউদ্দিন কেন ওই কোচকেই রাখতে চান; তা তারাও বুঝতে পারেন না।

তবে কিছুদিনের মাথায় এ ব্যাপারটাও খোলাসা হয়ে যায়। হেড কোচ হিসেবে ততোদিনে নিয়োগপত্র পেয়ে গেছেন হ্যাভিয়ের কাবরেরা। আর তাকে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে বাছাই, মনোনয়ন; গ্রহনযোগ্যতা, সমর্থন ও এজেন্টের কাজ করেছেন আলেক্সান্ডার ব্রাটজলার। জ্বি, ঠিকই পড়েছেন। কাজী সালাউদ্দীনের মেয়ে সারাজিন ব্রাটজলার কাজীর স্বামী আলেক্সান্ডার ব্রাটজলার।

জার্মান এই নাগরিক একজন টেক এক্সপার্ট; বাংলাদেশেও থাকেন না। বাংলাদেশ ফুটবল দূরে থাক, এই খেলা সম্পর্কেই তার জ্ঞান শূন্যে কোটায়। সেই তিনিই কিনা কোথা থেকে ধরে নিয়ে এলেন এক আনকোরা কোচ; যাকে জাতীয় দলের হেড কোচ বানাতে নিজের সর্বোচ্চটাই প্রয়োগ করেছেন সালাউদ্দিন।

বাফুফে সভাপতির ক্ষমতা সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিলেন এই জার্মান ভদ্রলোক। তাই নিজের স্বার্থটাও এবার কড়ায়গণ্ডায় বুঝে নিলেন। বাংলাদেশে তার প্রতিষ্টানের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ ডলার জার্মানিতে পাচার করে নিয়েছেন। তবু এই প্রতিষ্টানকে লেজিটিমাইজ করতে তার প্রয়োজন ছিলো একজন পাক্কা খিলাড়ি রাজনীতিবিদের। সালাউদ্দিনের মাধ্যমে তা তিনি পেয়েও গেলেন। প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোয়ায়েল আহমেদ তখন বানিজ্য মন্ত্রী; তার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্টানের প্রসার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বেশ বড় অঙ্কের মানি লন্ডারিংয়ের কাজটাও সেরে ফেললেন ব্রাটজলার।

সারাজিন ও ব্রাটজলার দম্পতি এখানেই থেমে থাকলেন না। সালাউদ্দিন, বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের অধিপত্য ও সরকারি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাংলাদেশ পুলিশের সাথে কোলাবোরেশানে গেলেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টারে তাদের প্রযুক্তি ব্যবস্থার ডিস্টিবিউশনের মাধ্যমে নিরাপত্তা ইস্যুটিরও একটা রফাদফা হয়ে গেলো। আর এখানেও সালাউদ্দিন ভাগ বসালেন একটা বিরাট অংকের কমিশন।

এদিকে হ্যাভিয়ের কাবরেরা’কে আনুষ্ঠানিকভাবে হেড কোচ হিসেবে ঘোষণা করার পর এককালীন কমিশন তো পেলেনই ব্রাটজলার, মাসিক হারেও সেটা পোঁছে গেছে (কিংবা যাচ্ছে) সারাজিনের জীবন সঙ্গীর পকেটে।

২০২৪ সালে দেশে এক বিরাট পরিবর্তন এসেছে।
দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা মসজিদের খতিব পর্যন্ত! পালাতে পারেন নি সালাউদ্দিন। তার মেয়ে, মেয়ের জামাই দেশের ব্যবসা গুটিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন জার্মানিতে। সব হারানোর মাঝেও যিনি এখনো রয়ে গেছেন আপন মহিমায়, তিনি হ্যাভিয়ের কাবরেরা।

২০১৮ সাল থেকে স্পেনিশ ক্লাব ডেপোর্তিবো আলাভেজ এর এলিট একাডেমির, ও ‘২০ থেকে ক্লাবের অনুর্ধ-১৯ দলকে কোচিং করানো হ্যাভিয়ের কাবরেরা’কে কিভাবে খুঁজে পেয়েছিলেন আলেক্সান্ডার?

সেটা একটা বিস্ময়ই বটে।
তবে তা প্রকাশ করার আগে আরেকটা তথ্য দেই। হ্যাভিয়ের কাবরেরা পড়াশোনা করেছেন ‘এডভার্টাইজিং এ্যন্ড সেলস’ বিষয়ে। ফুটবল কোচিং শুরুর আগে তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ভিডিও এনালিস্টের চাকরি। ওপ্টা’তে কাজও করেছেন বছর ছয়েক।

২০২১ সালের শেষের দিকে ঢাকায় আলেক্সান্ডার ব্রাটজলারের সাথে একজন ব্যক্তির পরিচয় হয়। সালাউদ্দিনের আমন্ত্রনে ডিনারে সে ব্যক্তির সাথে গল্পের একপর্যায়ে জানতে পারেন তিনি এক সময় ভারতে ছিলেন একটি ফুটবল ক্লাবের দায়িত্বে। সালাউদ্দিনের মাধ্যমে ব্রাটজলারের সাথে পরিচিত হওয়া ব্যাক্তিটি হলেন ওস্কার ব্রুজন বারেরাস! বসুন্ধরা কিংসের সাবেক ম্যানেজার।

জেমি ডে’কে দুই মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়ে দেয়ার পর ওস্কার ব্রুজনকে ২০২১ সালে খণ্ডকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলো বাফুফে; সাফের ব্যর্থতার পর তার সঙ্গে আর চুক্তি বাড়ায়নি ফেডারেশন। দায়িত্ব দেয়া হয় মারিও লেমোস’কে, সেটাও অল্প সময়ের জন্য। এই সময়টায় আলেক্স ব্রাটজলারকে হ্যাভিয়ের কাবরেরা’র সন্ধান দেন হুয়ান ফ্রান্সিসকো গার্সিয়া নামের এক খেলোয়াড়। তিনি আরোও জানতে পারেন হ্যাভিয়ের ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্পোর্টিং গোয়া’র টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ও সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর স্পোর্টিং গোয়া’র প্রধান কোচ ছিলেন খোদ ওস্কার ব্রুজন! আর তাদের দু’জনকেই কাছ থেকে দেখেছেন হুয়ান। এই সুযোগটি হাতছাড়া করতে চান নি ব্রাটজলার।

তারও বহু আগে থেকেই ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্টানের সাথে দূর্নীতির পাহাড় গড়ছিলেন সালাউদ্দিন; সে হিসেবে ব্রাটজলারের মাধ্যমে পাওয়া ওস্কার ব্রুজনের সহকারী কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা’কে তার মনে ধরারই কথা। কিন্তু ওস্কার ব্রুজন কখনোই হ্যাভিয়েরকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে সালাউদ্দিনকে উৎসাহিত করেন নি! সালাউদ্দিনই খোদ উৎসাহিত হয়ে কাজটি করেছেন।

হ্যাভিয়ের কাবরেরা’র পাশাপাশি জাতীয় দলের টিম ম্যানেজার হিসেবে হ্যাভিয়ের কাবরেরা’কে নিয়োগ দিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিলেন সালাউদ্দিন। ২০০২ সালে ফুটবলের অধ্যায় সমাপ্ত করা আমের খান কখনো ফুটবলের সঙ্গে কাজ করতেন কিনা সন্দেহ, তবে সালাউদ্দিনের প্রভাবে ২০১৪ সালে অনুর্ধ-১৯ দলের টিম ম্যানেজারের দায়িত্ব নিয়ে বাফুফেতে আসেন আমের খান। তারপর আবার ২০১৯ সালে। পরবর্তী বছরেই তাকে জাতীয় দলের টিম ম্যানেজার বানানো হয়। অথচ এই আমের খানের বিরুদ্ধ্ব বাফুফে আছে একাধিক ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ। অকপটে ম্যাচ পাতানোর কথা স্বীকারও করেছেন কয়েকটা সাক্ষাৎকারে। কিন্তু যত যাই করেন না কেন আমের খান, সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে কথা বলতেন না বরং তাকে ব্যাকাপ দিতেন বিভিন্ন সময়। আর সালাউদ্দিনও তাকে ক্ষমতার অদৃশ্য বলয়ে ঢেকে রাখতেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে ২০২০ সালে তাকে টিম ম্যানেজার বানানো হয়েছিলো মাত্র ৩ টি ম্যাচের জন্য; চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগেও দূর্নীতি করেছেন সালাউদ্দিন। নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচপ্রতি ৫০০ ডলার খরচ করার হাদিয়া পান টিম ম্যানেজার; আমের খানের বেলায় সেটি ছিলো ১৩ গুন বেশি! অর্থ্যাৎ ৬৫০০ ডলার খরচ করেছেন তিনি; বাফুফের অর্থবছরের হিসাব তো অন্তত তাই বলছে। ‘২৩ এর সাফ থেকে এখনো বাংলাদেশ জাতীয় দলের টিম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন আমের খান; যদিও ম্যানেজারের দায়িত্বের চেয়ে সিন্ডিকেটের ইন্ডিকেটে কোচিং প্যানেল সামলানো আর খেলার মাঠ প্রভাবিত করতেই তাকে বেশি দেখা যায়। আরেক টিম ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপুও ছিলেন সালাউদ্দিনের একান্ত মানুষ। আজও বাফুফে ঘুরলে প্রশাসনিক সকল কামরাতেই সালাউদ্দিনের একান্ত মানুষজনের খোঁজ পাওয়া কোনো জটিল ব্যাপার নয়।

কাজী সালাউদ্দীনের বাফুফে’কে দীর্ঘ ১৫ বছরে একদম ধ্বংস করে গেছেন, দু’হাতে করেছেন লুটপাট; সিন্ডিকেট মাফিয়াদের জন্ম দিয়ে গেছেন। তার সেই দেখানো পথে আজও চলছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। নিজে না থাকলেও তার রেখে যাওয়া মানুষেরা আজও প্রভাবিত করছেন দেশের ফুটবল। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দূরে থাক; কাজী সালাউদ্দীন নিজেই এখন পেয়ে গেছেন নিরাপদ এক্সিটের সনদ। বর্তমান প্রেসিডেন্ট সিন্ডিকেট তাকে দেশ থেকে সহীহ সলামতে বের করে দেয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন, যদিও তিনি ইতিমধ্যেই বেশকিছু বার দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হয়েছেন।

সম্প্রতি ফাহাদ করিম যমুনা টেলিভিশনের এক অনুষ্টানে বলেছেন তিনি জানেন না, কিংবা এটাকে সিন্ডিকেট বলে কিনা তিনি নিশ্চিত না; (কিছু নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে বারবার দলে খেলানো সম্পর্কে) আসলে ফাহাদ করিমেরাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সিন্ডিকেট। তারা সিন্ডিকেট, বানিজ্য করে আবার বাইরে এসে বুলি আওড়ায় সিন্ডিকেট আছে কিনা তারা জানে না!

মানুষ ভিন্ন, চেহারা ভিন্ন- কিন্তু আড়ালে আড়ালে এরা সবাই-ই কাজী সালাউদ্দীনের লোক। হ্যাভিয়ের কাবরেরা, আমের খান, মাহফুজা কিরণ কিংবা তাবিথ আউয়াল- ফাহাদ করিম; সময়ের ব্যবধানে এদের পরিচয় পাল্টেছে, কিন্তু পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টের দেখানো পথে তারা বেশ ভালোভাবেই হাঁটছেন।

বাংলাদেশ ফুটবল দীর্ঘজীবি হোক….

অল দ্যা প্রেসিডেন্ট’স ম্যান। আহমদ আতিকুজ্জামান

জনপ্রিয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *