আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের ব্যর্থতা, দায় কার?

বিশেষ প্রতিবেদন  ·  কেস স্টাডি

আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের ব্যর্থতা, দায় কার?

তিন ম্যাচে পয়েন্ট শূন্য, গোল হজম ১৩। জাকার্তার গেলোরা বুং কর্নো স্টেডিয়ামে লাল সবুজ জার্সির যে পরাজয়ের গল্প লেখা হলো, তার পেছনে কারণ কি শুধু মাঠের ভেতরে?

০পয়েন্ট
৩ ম্যাচে
২গোল
করেছে
১৩গোল
হজম
১৮১ফিফা র‍্যাঙ্কিং
জুলাই ২০২৬

ফিফার অনুমোদনে প্রথমবারের মতো আয়োজিত আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল এক ধরনের উপহার। ভারত সরে দাঁড়ানোয় শেষ মুহূর্তে ডাক পায় লাল সবুজেরা। সুযোগটা ছিল নভেম্বরে ঢাকায় বসতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে নিজেদের যাচাই করার। যাচাইয়ের ফল এখন সবার সামনে: তিন ম্যাচে তিন হার, ২ গোল করে ১৩ গোল হজম। প্রশ্ন উঠেছে, এই পরিণতির দায় কার?

শেষ মুহূর্তের আমন্ত্রণ

২২ আগস্ট বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু জানান, ফিফা বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। আগের রাতেই ফেডারেশনের আবেদনে ইতিবাচক সাড়া মেলে। ভারত অন্য আন্তর্জাতিক সূচির সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে নাম প্রত্যাহার করায় তার জায়গায় আসে বাংলাদেশ। আয়োজক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে পড়ে গ্রুপ এ তে। অন্য গ্রুপে ছিল থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও পাকিস্তান।

প্রতিপক্ষ তিনটিই ছিল র‍্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে। প্রধান কোচ টমাস ডুলি ম্যাচের আগেই সমর্থকদের বাস্তববাদী হতে বলেছিলেন। তাঁর ভাষ্য ছিল, দেশে অনেকে ভাবছেন জাকার্তায় গিয়ে সবাইকে হারিয়ে দেওয়া যাবে, কিন্তু ফুটবল সেভাবে চলে না।

র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান

ইন্দোনেশিয়া
১১৬
মালয়েশিয়া
১৩৬
সিঙ্গাপুর
১৪৬
বাংলাদেশ
১৮১

সংখ্যা যত বড়, অবস্থান তত নিচে। বাংলাদেশের র‍্যাঙ্কিং ২০ জুলাই ২০২৬ অনুযায়ী। ইন্দোনেশিয়ার ১১৬ নেওয়া হয়েছে ডেইলি স্টারের ম্যাচ প্রতিবেদন থেকে (বাংলাদেশের চেয়ে ৬৫ ধাপ এগিয়ে)। প্রাক ম্যাচ প্রতিবেদনে ১১৮ উল্লেখ ছিল।

প্রস্তুতির চালচিত্র

টুর্নামেন্টের আগের ছবিটা মোটেই আদর্শ ছিল না। কোচ ডুলি দায়িত্ব নেন ২২ মে, দুই বছরের চুক্তিতে। অভিষেক ম্যাচে সান মারিনোকে হারান ৫ জুনে। এরপর প্রায় দুই মাস দেশীয় ফুটবলাররা দলগতভাবে অনুশীলনের বাইরে ছিলেন। কয়েকটি ক্লাবের ওপর ফিফার নিবন্ধন নিষেধাজ্ঞা থাকায় ঘরোয়া ফুটবলও ছিল অনিশ্চিত। আগস্টের শেষে শুরু হওয়া ক্যাম্পে ডুলি সবচেয়ে বেশি জোর দেন ফিটনেসে। বিদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়সহ পুরো দল জাকার্তায় একসঙ্গে হয় মাত্র তিন দিন আগে।

তুলনায় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর গত এক মাসে চার পাঁচটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছে এবং ছয় থেকে আট সপ্তাহ একসঙ্গে অনুশীলন করেছে। কোচের এই হিসাব সত্যি হলে মাঠের লড়াইটা শুরুর আগেই অসম ছিল।

তিন ম্যাচের গল্প

বাংলাদেশ
০৩
মালয়েশিয়া
ম্যাচ ১  ·  ২৫ সেপ্টেম্বর  ·  গেলোরা বুং কর্নো, জাকার্তা

উদ্বোধনী হারআরিফ আইমান প্রথমার্ধে ১৮ ও ৩৮ মিনিটে দুই গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা বের্গসন তৃতীয় গোলটি যোগ করেন। বাংলাদেশ কার্যকর কোনো আক্রমণ সাজাতে পারেনি।

ম্যাচের আগে ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ টপুকে নিয়ে প্রশ্ন ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনটি গোলেই তাঁর সংশ্লিষ্টতা ছিল। ম্যাচ শেষে ডুলি খেলা নিয়ে মোটামুটি সন্তুষ্ট থাকার কথা বলেন, কারণ তাঁর হিসাবে মালয়েশিয়া অনেক এগিয়ে। অভিষেকে আসা ফারহান আলী ওয়াহিদ, শুকি ইতোফুসা ও জিদান ইউসুফকে নিয়ে তিনি ইতিবাচক ছিলেন।

সিঙ্গাপুর
১০
বাংলাদেশ
ম্যাচ ২  ·  ২৮ সেপ্টেম্বর  ·  গেলোরা বুং কর্নো, জাকার্তা

উন্নতি, তবু হারডুলি একাদশে চারটি পরিবর্তন আনেন। বাইরে যান সোহেল রানা, ফারহান, শাকিল আহাদ টপু ও ফাহামিদুল ইসলাম। ভেতরে আসেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, শেখ মোরসালিন, শুকি ইতোফুসা ও জিদান ইউসুফ। দলটা তুলনায় গোছানো ও সক্রিয় ছিল, বল বের করে আনার ধরনেও শৃঙ্খলা ছিল।

৩৫ মিনিটে নূর আবদুল্লাহর ক্রসে হ্যারিস স্টুয়ার্টের হেড ম্যাচের একমাত্র গোল। ৩৩ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে সিঙ্গাপুরের শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। প্রথমার্ধে সিঙ্গাপুরের পাঁচ শটের চারটি ছিল লক্ষ্যে, বাংলাদেশ একটি শটও নিতে পারেনি। ম্যাচ শেষে ডুলি আসল সমস্যা হিসেবে দুর্বল ঘরোয়া লিগ, সীমিত প্রস্তুতি ও নির্ভরযোগ্য গোলস্কোরারের অভাবের কথা বলেন।

ইন্দোনেশিয়া
৯২
বাংলাদেশ
ম্যাচ ৩  ·  ১ অক্টোবর  ·  গেলোরা বুং কর্নো, জাকার্তা

বিপর্যয়ফাইনালে যেতে বড় জয় দরকার ছিল ইন্দোনেশিয়ার। ১১ মিনিটে প্রথম গোল হজমের পর বাংলাদেশ আর দাঁড়াতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্ট্রাইকার মিচেল বেকার একাই করেন পাঁচ গোল। ৩৬ মিনিটে শাহরিয়ার এমনের হেডে ব্যবধান কমে ৩ ঃ ১ হলেও বিরতিতে যাওয়ার সময় ফল দাঁড়ায় ছয় গোলে এক।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কিছুটা লড়াই দেখায়। বদলি নামা ফারহান যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই জবাব দেয় স্বাগতিকেরা। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডায় কিছুক্ষণ খেলা থেমে ছিল। শ্রাবণের একের পর এক সেভ না থাকলে ব্যবধান আরও বাড়ত।

ম্যাচভিত্তিক গোল: করেছে বনাম হজম

করেছে হজম ০ ৩ মালয়েশিয়া ০ ১ সিঙ্গাপুর ২ ৯ ইন্দোনেশিয়া

গড়ে প্রতি ম্যাচে হজম ৪.৩৩ গোল। বাংলাদেশের মোট গোল ২: শাহরিয়ার এমন ১, ফারহান আলী ওয়াহিদ ১।

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে: কোন অর্ধে কত গোল

প্রথমার্ধ
৬
১
দ্বিতীয়ার্ধ
৩
১
ইন্দোনেশিয়াবাংলাদেশ

প্রথমার্ধেই ম্যাচের ফয়সালা হয়ে যায়। বিরতির পর বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত শক্ত ছিল, তবে শেষ দিকে ঘনঘন গোল হজম ঠেকাতে পারেনি।

সংখ্যায় ব্যর্থতা

সূচকবাংলাদেশ
খেলা, জয়, ড্র, হার৩, ০, ০, ৩
গোল করেছে, হজম২, ১৩
গোল ব্যবধানমাইনাস ১১
পয়েন্ট ও অবস্থান০, গ্রুপের সবার নিচে
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে প্রথমার্ধে শটবাংলাদেশ ০, সিঙ্গাপুর ৫ (লক্ষ্যে ৪)
এক ম্যাচে সর্বোচ্চ হজম৯ গোল, ইতিহাসে সর্বোচ্চের সমান

নয় গোল হজমের এই রেকর্ড আগে ছিল ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও ১৯৮২ সালে ইরানের বিপক্ষে। ইন্দোনেশিয়ার কাছে হার গত তিন বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরাজয়ও। এর আগে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার কাছে সাত গোলে হেরেছিল দল।

সবচেয়ে অস্বস্তিকর তথ্য: মার্চ ২০২৬ এ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের কাছে ১ গোলে হারা দল জাকার্তায়ও সেই সিঙ্গাপুরের কাছেই ১ গোলে হারল।

দায় কার? চার কাঠগড়া

এই ব্যর্থতার দায় একজনের ঘাড়ে চাপানো সহজ, কিন্তু প্রমাণ বলছে ছবিটা বহুস্তরের। নিচে প্রতিটি পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং তাদের পক্ষের যুক্তি পাশাপাশি রাখা হলো।

কাঠগড়া ১

বাফুফে ও প্রস্তুতির কাঠামো

  • ক্যাম্প শুরু আগস্টের শেষে, তার আগে প্রায় দুই মাস জাতীয় দলের দেশীয় খেলোয়াড়েরা দলগত অনুশীলনের বাইরে।
  • একাধিক ক্লাবের ওপর ফিফা নিবন্ধন নিষেধাজ্ঞা, ঘরোয়া মৌসুম শুরু অনিশ্চিত।
  • পুরো দল একসঙ্গে মাত্র তিন দিন, আর প্রতিপক্ষ ছয় আট সপ্তাহের প্রস্তুতিতে।
  • কোচ নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন। ক্রিস কোলম্যানের সঙ্গে আলোচনা এজেন্ট ফি নিয়ে ভেঙে গিয়ে ডুলি আসেন।

পাল্টা যুক্তি: ফিফার নিশ্চিতকরণ এসেছিল টুর্নামেন্টের প্রায় একমাস আগে, ভারতের সরে যাওয়া ফেডারেশনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। ঘরোয়া লিগ চালু রাখতে ফেডারেশন অবনমন বাতিল করে ক্লাবসংখ্যা ১৩ করেছে।

কাঠগড়া ২

কোচ ও কৌশল

  • প্রথম ম্যাচে রক্ষণ ও মাঝমাঠের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। কোচ নিজেই সোহেল রানার খেলায় অসন্তোষ জানান, টপু ও সোহেল পরের ম্যাচে বাদ পড়েন।
  • সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে প্রথমার্ধে একটিও শট নেই।
  • ইন্দোনেশিয়া ম্যাচের আগে কোচ নিজেই বড় ব্যবধানে হারের শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ব্যবধান চার, পাঁচ নাকি ছয় গোল হবে তা তিনি জানেন না। সেই শঙ্কাই বাস্তব হলো।

পাল্টা যুক্তি: দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাস, সঙ্গে সীমিত সময়। দ্বিতীয় ম্যাচে চার পরিবর্তনে দলের চেহারা বদলে যাওয়া তাঁর ক্ষমতারই প্রমাণ। তিনি বারবার বলছেন, ১৮০ থেকে ১৫০ র‍্যাঙ্কিংয়ে উঠতে দুই থেকে তিন বছর লাগতে পারে।

কাঠগড়া ৩

খেলোয়াড় ও শৃঙ্খলা

  • তিন ম্যাচে মাত্র ২ গোল। ডুলিও নির্ভরযোগ্য গোলস্কোরারের অভাবকে বড় সমস্যা বলেছেন।
  • ডুলির মতে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও গতিতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা পিছিয়ে, যা উঁচু মানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে ধরা পড়ে।
  • ৯ ঃ ২ এর পর সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা জুনিয়রের নাইটক্লাবের ছবি ঘিরে বিতর্ক।

পাল্টা যুক্তি: দুই খেলোয়াড়ই বলেছেন ছবিগুলো পুরোনো, নেপালে ছুটিতে তোলা। অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, তদন্ত চলছে। তাই মাঠের পারফরম্যান্সের দায় আর এই বিতর্ককে এক করে দেখা ঠিক হবে না।

কাঠগড়া ৪

ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামো

  • ডুলির ভাষ্য: মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার লিগ অনেক শক্তিশালী, সেখানে সারা বছর সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হয়।
  • ইন্দোনেশিয়ার ছয় সাতজন খেলোয়াড় জার্মানি, নেদারল্যান্ডস বা ইতালির শীর্ষ লিগে খেলেন, যার প্রভাব মাঠে স্পষ্ট ছিল।
  • বাংলাদেশে ক্লাব নিষেধাজ্ঞা, লাইসেন্সিং সময়সীমা বারবার পেছানো এবং নিয়ম বদলের ঘটনা ঘটেছে।

পাল্টা যুক্তি: এটি একদিনের সমস্যা নয়, বহু বছরের জমে থাকা সংকট। এখনকার কর্মকর্তাদের একার ঘাড়ে সব চাপানো যাবে না।

প্রতিবেদকের মূল্যায়ন

প্রমাণের ওজন সবচেয়ে বেশি পড়ে কাঠামো আর প্রস্তুতির দিকে। ঘরোয়া লিগের দুর্বলতা, ক্যালেন্ডারের অনিশ্চয়তা আর দল গড়ার সময়ের অভাব মিলে ফল প্রায় আগেই লেখা হয়ে গিয়েছিল। তবে এতে কোচ ও খেলোয়াড়দের জবাবদিহি মুছে যায় না। প্রথমার্ধে একটি শটও না নেওয়া এবং ছয় গোল হজমের মতো ঘটনা প্রস্তুতির অজুহাতে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায় না। আর শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে সেটি আলাদা শাস্তির যোগ্য।

সাম্প্রতিক পরিবর্তন

  • ২২ মেটমাস ডুলি দুই বছরের চুক্তিতে প্রধান কোচ। সাবেক মার্কিন অধিনায়ক খেলেছেন ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে।
  • ২৫ আগস্ট২৮ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা। অনুশীলন শুরু ২৮ আগস্ট। পরে ছয়জনকে বাদ দেন ডুলি।
  • ১৮ সেপ্টেম্বর২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল। চোটের কারণে বাদ টপু বর্মন, ঢুকলেন শাহরিয়ার এমন। ট্রায়াল প্রক্রিয়ায় জায়গা পেলেন শুকি ইতোফুসা, জিদান ইউসুফ ও ফারহান আলী ওয়াহিদ।
  • ১৮ সেপ্টেম্বরনতুন মৌসুমে বাংলাদেশ ফুটবল লিগ শুরু। দল ১০ থেকে বেড়ে ১৩, আগের মৌসুমের অবনমন বাতিল।
  • ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবরতিন ম্যাচে তিন হার। দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে নতুন মুখ জিদান, ইতোফুসার সুযোগ।
  • ১ অক্টোবর রাত ও পরেনাইটক্লাবের ছবি ছড়ায়। দুই ফুটবলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। ম্যানেজার বাবু জানান, প্রমাণ হলে শৃঙ্খলা কমিটি ব্যবস্থা নেবে।
  • ৪ অক্টোবরযুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্পোর্টস কার্ডের ভাতা বাতিল হতে পারে। ফেডারেশন সভাপতি তাবিথ আউয়াল দেশের বাইরে থাকায় বাকি আলোচনা তাঁর ফেরার অপেক্ষায়।
  • নভেম্বরঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ডুলি বলেছেন, দেশে ফিরে সেটি জিততে হবে।

দলে কী বদলাচ্ছে

এই টুর্নামেন্টে কোচ প্রবাসী ও বিদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়ের ওপর ভর করেছেন। স্কোয়াডে নয়জন প্রবাসী ছিলেন। ইংল্যান্ডে খেলা হামজা চৌধুরী ও শামিত সোম আগের মতোই ছিলেন, সঙ্গে যোগ হন জাপানভিত্তিক ইতোফুসা, ইংল্যান্ডভিত্তিক ফারহান ও লন্ডনে জন্ম নেওয়া জিদান ইউসুফ।

১৯ বছর বয়সী জিদান সিঙ্গাপুর ম্যাচে বাঁ দিকের সেন্টার ব্যাক হিসেবে প্রথম পূর্ণ ম্যাচ খেলেন। ডেইলি স্টারের বিশ্লেষণে তাঁর ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতা ও বল নিয়ন্ত্রণের প্রশংসা আছে। তাঁর সঙ্গে তারিক কাজীর জুটিতে রক্ষণ থেকে খেলা বের করার সুযোগ বেড়েছিল। হামজা নেমে এসে প্রায় লিবেরোর ভূমিকায় খেলেন, ফুলব্যাকেরা উঠে খেলার জায়গা পান। টপু ফিরলে ডুলির হাতে তিনজন বিশ্বাসযোগ্য সেন্টার ব্যাক থাকবে।

সামনে কী

নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ এখন আসল পরীক্ষা। সেখানে মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিপক্ষ নেই, কিন্তু ঘরের মাঠের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এই কেস স্টাডি থেকে চারটি পথ বেরিয়ে আসে।

  • ম্যাচের আগে অন্তত চার পাঁচ সপ্তাহের একসঙ্গে প্রস্তুতি এবং ফিফার তারিখে নিয়মিত প্রীতি ম্যাচ নিশ্চিত করা।
  • ক্লাবগুলোর নিবন্ধন নিষেধাজ্ঞা দ্রুত নিষ্পত্তি করে ঘরোয়া লিগের সূচি স্থির রাখা।
  • ফিনিশিংয়ের জন্য আলাদা পরিকল্পনা। কারণ ডুলি নিজেই বলেছেন, নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার নেই।
  • নাইটক্লাব বিতর্কের তদন্ত স্বচ্ছভাবে শেষ করে ফল প্রকাশ করা।

জাকার্তার ফল ধুয়ে ফেলা যাবে না, কিন্তু ঠিকমতো পড়া গেলে সেটি ফুটবলের পুনর্গঠনের নকশা হতে পারে। ইন্দোনেশিয়া শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ১০ জনের থাইল্যান্ডকে পেনাল্টিতে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছে। বাংলাদেশের সামনে সেই পথে হাঁটার আগে প্রথম কাজ, নিজেদের কাঠামো ঠিক করা।

জনপ্রিয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *