যেভাবে হত্যার স্বীকার পাঁচ ব্লগার!

ব্লগার নিলয় হত্যার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে ৫ম ব্লগার হত্যার ঘটনা ঘটলো। চাপাতির আঘাতে একই কায়দায় এই সিরিজ হত্যাকান্ড ঘটে চলেছে। সব হত্যার দায় স্বীকার করে এসেছে আনসার বাংলা বা আনসার আল ইসলাম। অন্ততঃ ২টি হত্যাকান্ডে জড়িত কয়েকজন ধরা পড়লেও তাদের বিচার শুরু হয়নি। হত্যাকারী অনেকে ধরা পড়েনি। বরাবরের মতো পুলিশ তদন্ত চলছে বলে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। 

বেনার নিউজের পক্ষ থেকে ৫ ব্লগার হত্যার ইতিবৃত্ত ও মামলার অবস্থা এখানে প্রকাশ করা হলো।

ব্লগার রাজীব হত্যা :

তারিখ: গত ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুরে চাপাতির আঘাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে। বাংলাদেশে রাজীব হত্যাই ছিলো প্রথম ব্লগার হত্যা।

মামলা এবং আটক: রাজীব হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহর প্রধান মুফতি মুহাম্মদ জসীমউদ্দিন রাহমানীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়, যাদের মধ্যে একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রও আছেন।তাদের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৯ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। মামলাটি এখন বিচারাধীন। ব্লগার হত্যার এই একটি ঘটনাই  মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। বাকি সবগুলোর তদন্ত চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।  

অভিজিত হত্যা :

তারিখ: চলতি বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি। একুশে বই মেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জঙ্গি কায়দায় হামলায় খুন হন মুক্তমনা লেখক অভিজিৎ রায়। আহত হন তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। পরদিন নিহতের বাবা শিক্ষাবিদ অজয় রায় শাহবাগ থানায় মামলা করেন। 

অভিজিত হত্যার অভিযোগে ২ মার্চ শাফিউর রহমান ফারাবীকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করে, যিনি এর আগে ব্লগার রাজীব হত্যাকাণ্ডের পর ফেসবুকে উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। উগ্রবাদীদের পক্ষে বিভিন্ন সময় কার্যক্রম পরিচালনাকারী ফারাবী বাংলা বই বিক্রির ওয়েবসাইট রকমারি ডটকম থেকে অভিজিৎ রায়ের বই সরাতেও হুমকি দিয়েছিলেন। তবে তিনি অভিজিত হত্যার দায় অস্বীকার করেন।

এ ঘটনা তদন্তে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) বাংলাদেশে এসে ঘুড়ে যায়। এখন পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডের কোনো কূল কিনারা খুঁজে পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যা :

তারিখ: অভিজিত হত্যার পর গত ৩০ মার্চ সকালে ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় নিজের বাসা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় খুন হন অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবু। 

মামলা ও আটক: ওয়াশিকুরকে হত্যার পর পালানোর সময়  জিকরুল্লাহ ও আরিফুল নামের দুজন হত্যাকারীদকে ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন হিজড়া স্থানীয় অন্যান্য মানুষ ও পুলিশ মিলে ধাওয়া দিয়ে ধরে ফেলে। তারা জানায়, হত্যাকাণ্ডে আবু তাহের নামে আরো একজন প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। আর হত্যার পরিকল্পনায় ছিল মাসুম নামে আরেক ব্যক্তি। ওয়াশিকুরের পরিবারের পক্ষ থেকে এই চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও বাকিদের আজও ধরতে পারেনি পুলিশ। এই মামলাটিরও তদন্ত চলছে বলে জানায় তারা।

ব্লগার অনন্ত বিজয় হত্যা :

তারিখ: ওয়াশিকুর হত্যার এক মাসের মাথায় চলতি বছরের ১২ মে সিলেটে বাসা থেকে বেরিয়ে অফিসে যাওয়ার পথে একই ধরনের হামলায় খুন হন আরেক মুক্তমনা ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ। তিনিও গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 

মামলা ও আটক: অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই রতেশ্বর দাশ বাদী হয়ে মামলা একটি মামলা দায়ের করে। এ ঘটনার প্রায় ২৭ দিন পর অনন্ত বিজয় হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সিআইডি পুলিশ ইদ্রিস আলী নামে একজনকে গ্রেফতার করে।  তিনি সিলেটের স্থানীয় একটি দৈনিকের ফটোসাংবাদিক। তাকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়।

ব্লগার নিলয় হত্যা :

তারিখঃ  বাংলাদেশে ব্লগারদের লাশের মিছিলে যুক্ত হল আরো একটি নাম, খুন হলেন ব্লগার নিলয় নীল। ৭ আগষ্ট প্রকাশ্য দিবালোকে ভাড়াটিয়া পরিচয়ে বাসায় ঢুকে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার আসল নাম নীলাদ্রি চক্রবর্তী (৪০) আগের মতোই এ হত্যার দায় স্বীকার করেছে আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের (এআইকিউএস) বাংলাদেশ শাখা আনসার আল ইসলাম।

পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে খুনের দায়ে আটক করতে পারেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান মিডিয়াকে জানান, অপরাধীদের ধরতে পুলিশের কয়েকটি দল মাঠে নেমেছে।

One response to “যেভাবে হত্যার স্বীকার পাঁচ ব্লগার!”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Post

  • Hello world!

    Welcome to WordPress. This is your first post. Edit or delete it, then start writing!

    Read More

  • একুশের মেলা, না-আসা বই, আর লেখকের নীরব দীর্ঘশ্বাস একুশ কোনো সাধারণ তারিখ নয়। একুশ মানে ভাষা, আত্মপরিচয়, মাথা নত না…

    Read More

  • কর্ণেল তাহের ও তার পৃথিবী সমান স্বপ্ন!

    কর্নেল তাহের বাংলাদেশের রাজনীতির ‘ব্ল্যাক বক্স’! শাহাদুজ্জামান তাঁর ‘ক্রাচের কর্নেল’ উপন্যাসে তাঁকে বলেছেন এক আশ্চর্য নামে। বাংলাদেশের রাজনীতির ‘ব্ল্যাক বক্স’।…

    Read More