১৯৭৩ থেকে ২০২৪ : গনতন্ত্র থেকে একনায়কতন্ত্র!

১৯৭৩ থেকে ২০২৪ : আওয়ামিলীগ কতটুকু বদলেছে?

স্বাধীনতার পর দেশে ১ম নির্বাচন। দেশজুড়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। সেবার ক্ষমতার অপব্যবহার না করলেও পারতেন মুজিব; পরাজিত হওয়ার সম্ভবনাও ছিলো ক্ষীণ। অথচ ব্যাপক অনিয়ম, ব্যালট বাক্স চুরি, মনোনয়ন কেলেংকারি আর জ্বালাও পোড়াও করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চাইলেন তিনি।

স্বাধীনতার পরেই বিরোধীদের ন্যুনতম সহ্য করার সহ্য করার মানসিকতা ছিল না আওয়ামিলীগের। ভূয়া নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার প্রচেষ্টা মূলত আওয়ামিলীগের জেনেটিক্যাল ক্যারেক্টার। অদ্ভুতভাবে ২০১৮ এর মত ১৯৭৩ সালের নির্বাচনেও বিরোধীরা মাত্র সাতটি আসন পেয়েছিল।

১৯৭৩ সালে নির্বাচনে অংশ নিতে এক হাজার ২০৩ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। বাছাই ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী দাঁড়ায় এক হাজার ৮৯ জনে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ১২০ জন। ভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ১১ জন, তাদের সবাই আওয়ামী লীগের।

তিন কোটি ৫২ লাখ পাঁচ হাজার ৬৪২ জন ভোটার ছিলেন এই নির্বাচনে। ভোট পড়ার হার ছিল ৫৫ দশমিক ৬১ শতাংশ।

০৭ মার্চ ১৯৭৩ এর নির্বাচনে অনেক প্রার্থীকেই মনোনয়ন দাখিল করতে দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামিলীগ নেতারা। অনেককে মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। অনেককে অপহরণ করা হয়, আবার অনেককে জাল মামলা দিয়ে মনোনয়ন বাতিল করা হয়!

নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ ছিল কমবেশী সব দলেরই। ৯ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানায় জাসদ।আসম আবদুর রব একটা লিখিত বিবৃতিতে বলেন, ‘বিরোধী দলের প্রার্থীদের পরাজিত হতে বাধ্য করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে মেজর জলিল বলেন, তাঁর দলকে পোলিং এজেন্ট দিতে দেওয়া হয়নি। জাল ভোট দেয়া হয়েছে, সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হয়েছে এবং নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় কারচুপি করা হয়েছে।’ (গণকণ্ঠ, ১০ মার্চ, ১৯৭৩; জাসদের উত্থান পতনঃ অস্থির সময়ের রাজনীতি, পৃঃ৯৯)

৭৩এর নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐ বছরের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের পরাজয়ের সম্ভাবনা দেখা দিলে ছাত্রলীগ ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নির্বাচন বানচাল করে দেয়। ২০১৪/২০১৮/২০১৯ এ এসেও তারা ঠিক সেই কাজটি করে যা করেছিল তাদের পূর্ববর্তীরা।এভাবেই যুগ যুগ ধরে তাদের ঐতিহ্য বহন করে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এ দলটি…………..

বাংলাদেশ জন্মের পর ১ম নির্বাচনেই যে ঐতিহ্য রেখে গেছে আওয়ামিলীগ, তা আজও প্রবাহমান। পালের হাওয়ায় কতকিছু বদলেছে। ভোট চুরি, ব্যালট বাক্স চুরি, কেন্দ্র দখল, দাঙ্গা-মারামারি এগুলো এতোটাই নরমালাইজেশন করা হয়েছে যে ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে নির্বাচন কি জিনিস মানুষ ভুলে গেছে!

তবে এই দীর্ঘ যাত্রায় আওয়ামিলীগ একটা দারুন কাজ করেছে, তা হলো প্রশাসনকে ১০০% হাতের মুটোয় জিম্মি করে রাখা। নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী- সবকিছু এক নেত্রীর ইশারায় চলে।

২০১৪, ১৮ সালের পর ২৪ সালেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জনমানুষের রায়বিহীন আবারো ক্ষমতায় আসছে আওয়ামিলীগ। ডামি নির্বাচন আর প্রার্থীদের মানুষ গ্রহণ করা দূরে থাক- নির্বাচনের নামে যে নাটক চিত্রায়ণ হচ্ছে সেটা দেখার আগ্রহও নাই তাদের মধ্যে। কারণ, দেশটা যে আবারো বাকশালে পরিনত হয়েছে।

গণমানুষের রায়বিহীন অবৈধ, অনির্বাচিত বর্তমান সরকার প্রধান শেখ হাসিনা সবকিছু ছাপিয়ে যে সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের এই দেশকে একনায়কতন্ত্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন সেটা বলাই বাহুল্য। আর বেশি দিন নয়, মোয়াম্মার গাদ্দাফি, সাদ্দাম হোসেন, ইদি আমিন, মার্কোস- মোসলিনি কিংবা হিটলারের মতো একনায়কের নামের পাশে আমাদের মাদার অব পলিটিক্সের নামও যোগ হবে, ভাবতেই ভাল লাগছে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Post

  • Hello world!

    Welcome to WordPress. This is your first post. Edit or delete it, then start writing!

    Read More

  • একুশের মেলা, না-আসা বই, আর লেখকের নীরব দীর্ঘশ্বাস একুশ কোনো সাধারণ তারিখ নয়। একুশ মানে ভাষা, আত্মপরিচয়, মাথা নত না…

    Read More

  • কর্ণেল তাহের ও তার পৃথিবী সমান স্বপ্ন!

    কর্নেল তাহের বাংলাদেশের রাজনীতির ‘ব্ল্যাক বক্স’! শাহাদুজ্জামান তাঁর ‘ক্রাচের কর্নেল’ উপন্যাসে তাঁকে বলেছেন এক আশ্চর্য নামে। বাংলাদেশের রাজনীতির ‘ব্ল্যাক বক্স’।…

    Read More