ব্লগার ইস্যুতে আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্যদের অবস্থান

Awami League's Top Leadership Urged to Stand by Grassroots Leaders and the  General Public - BDDiGEST

৫ই ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চ সৃষ্ট হওয়ার ১০দিন পর রাজিব হায়দার যখন নিজ বাসার সামনে চাপাতির আঘাতে নিহত হলেন তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর রাজিব হায়দারের বাসায় যান এবং খুনিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন বলে তারা প্রতিশ্রুতি দেন। রাজিব হায়দার খুন হওয়ার পরই ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ও ডানপন্থী পত্রিকাগুলো ব্লগার বিভিন্ন লেখা কাটছাঁট করে পত্রিকায় প্রকাশ করে ব্লগারদের বিরুদ্ধে একটা জনমত গঠন করতে সক্ষম হয়। তাদেরই প্ররোচনায় হেফাজত ইসলাম মাঠে নামে। হেফাজতে ইসলাম সৃষ্টি হইছে ২০১০ সালে নারী নীতির প্রতিবাদে, ২০১৩ তে ব্লগার ইস্যুতে লাইমলাইটে আসে। ব্লগারদের গ্রেফতারের দাবী তোলে বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠন। তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে সরকার ধর্মঅবমাননাকারী বিশেষ করে ইসলাম অবমাননাকারী ব্লগারদের লিস্ট জমা দিতে আদেশ দেয়। ৩১ মার্চ ২০১৩তে ডিজিএফআই ও ওলামালীগের নেতারা বসে ব্লগারদের নিয়ে একটা লিস্ট তৈরি করে। যা ৮৪ ব্লগার লিস্ট হিসেবে পরিচিত। গত ২৪ মে ২০১৫ তে হেফাজত ইসলামের মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী বলেন- হেফাজতে ইসলাম ধর্ম অবমাননার ঘটনায় কোনো ব্লগারের তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেয়নি।

হেফাজত ইসলাম ব্লগারদের লিস্ট জমা না দিলেও ১৯ এপ্রিল ২০১৪ সালে ব্লগারদের হত্যা ওয়াজীব ঘোষণা, ৮ এপ্রিল ২০১৬ তে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে মুমিনদের জিহাদ করার জন্যে প্রস্তুত হওয়ার ঘোষণা দিলেও সরকার হেফাজতের এসব বক্তব্যের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো ব্লগার হত্যার পর সরকার ও রাষ্ট্রের অঙ্গ-সংগঠনগুলো ব্লগারদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করার একটা চেষ্টা চালায়। এই ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী’ও বেশ এগিয়ে। ৩ জুলাই ২০১৫, লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় বলেছিলেন-ব্লগার হত্যায় সরকারের প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে। এছাড়া ব্লগার ও জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার ফয়সল আরেফিন দীপন খুন হওয়ার পর তার পিতা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন-‘হত্যাকারীদের প্রতি আমার কোনও অভিযোগ নেই। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই না। কেননা বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক, সম্পূর্ণ সাংস্কৃতিক। আমি জানি, বিচার চেয়ে কোনো প্রতিকার হবে না।’ বিষয়টি স্পষ্ট সরকার ব্লগার হত্যাকারীদের ধরার জন্যে আন্তরিক নয়। উল্টো ব্লগারদের অপরাধী হিসেবে দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করে হীন রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টায় লিপ্ত আছে। ৫৭ ধারা নামক কুখ্যাত আইন সংশোধন করে সামান্য ব্লগ পোস্ট কিংবা ফেসবুক পোস্টের কারণে ৭-১৪ বছরের জেল ও ১ কোটি টাকা জরিমানা শাস্তি হিসিবে কার্যকর করা হয়েছে। ফলে অনলাইনে শুধু ধর্ম নয় সরকারের সমালোচনা করার জায়গাটিও ছোট হয়ে গেছে। ব্লগার হত্যায় দিন শেষ ইসলামিক দলগুলো ও সরকারই লাভবান হচ্ছে। এছাড়া ব্লগারদের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয় তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের পত্রিকা আমার দেশ। ১৬ মার্চ ২০১৩ তে খালেদা জিয়া বলেন-“শাহবাগে আন্দোলনকারীদের নাস্তিক, নষ্ট ও আওয়ামী ঘরানার।অবিলম্বে মঞ্চ-ফঞ্চ বন্ধ করুন।” তিনি আরো বলেন-“শাহবাগে এরা কারা? এরা নিরপেক্ষ নয়। এরা সব আওয়ামী ঘরানার আর নাস্তিক। যারা মুসলিম-হিন্দু-খ্রিস্টান কোনো ধর্মে বিশ্বাস করে না। নাস্তিকদের নিয়ে বিচার বিচার খেলা শুরু হয়েছে। এরা বিচার মানে না, আইন মানে না। রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলন করছে।” সুতরাং স্পষ্ট রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ব্লগারদের বিরুদ্ধে মানুষকে উস্কিয়ে দিতে চেষ্টা করেছে। পরোক্ষভাবে খুনিদের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছে।

ব্লগটি অবিশ্বাসী ব্লগার ইস্যুতে সরকার ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর বক্তব্য কী তা লিপিবদ্ধ করা। প্রতিটি বক্তব্য এখানে আপডেট করা হবে। সরকার ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর সকল বক্তব্যে লিপিবদ্ধ করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

[এই পোস্টে বাড়তি সংযোজন হিসাবে ড. ইউনূসের আমলে লেখক ও প্রকাশদের সাথে কী হয়েছিল সেই ঘটনাগুলোও উল্লেখ করা হল]

ড. ইউনূসের আমলঃ

ব্লগার অভিজিৎ হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ফারাবীর জামিন
৩০ জুলাই ২০২৫

ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শফিউর রহমান ফারাবী অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন। বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ জামিন দেন।

সূত্র: প্রথম আলো

ব্লগার হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করলেন মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী
১ জুন, ২০২৫

জসীমউদ্দীন রহমানীর একটা ভিডিও সামনে আসল, যেখানে তিনি সরাসরি ব্লগার হত্যাকাণ্ডের দায় থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। বলছেন, তিনি থাকলে ব্লগারদের বাচানো সম্ভব ছিল না, এইজন্যই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তবু ব্লগারদের বাচানো সম্ভব হয় নাই। ফতোয়াও দিচ্ছেন, নবীর কটুক্তিকারীদের দুনিয়াতে বাঁচার অধিকার নেই।

কিছুদিন আগে সে এনসিপি, জামায়াত, আর বাল্কায়েদার কর্মীদের সম্মিলিত সমাবেশে ইমামতি করেছে, তখন এর বিরুদ্ধে অনেকে প্রতিবাদ করায় অনেকেই এসে বলতে চেয়েছেন এই ব্যক্তি নাকি ভাল হয়ে গেছে। তিনি নাকি ব্লগার হত্যাকান্ডের সময়কার তৎপরতাকে এখন আর ধারণ করেন না। ওরা যে দিনে দুপরে এই জঘন্য খুনিকে নিয়ে মিথ্যাচার করছিল, তার প্রমাণ এই ভিডিও। এই খুনি এখনো ব্লগার হত্যাকান্ডে তার ভূমিকা নিয়ে গর্বিত।

ভিডিও লিংক- এখানে

কবি গালিব ২ দিনের রিমান্ডে
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

ধর্মীয় অবমনানার অভিযোগে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার কবি সোহেল হাসান গালিবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। ২০২৪ সালে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান উজান থেকে প্রকাশিত বইয়ে গালিবের লেখা একটি কবিতা ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়। কবিতাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ালে গালিবের বিরুদ্ধে মহানবীকে ‘কটাক্ষ’ করার অভিযোগ ওঠে। লেখালেখির পাশাপাশি গালিব একটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন।

সূত্র: https://bangla.bdnews24.com/

তসলিমার ‘চুম্বন’ ঘিরে সব্যসাচী স্টলে হামলা, প্রকাশক শতাব্দী ভব আটক
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশনা সংস্থা ‘সব্যসাচী’ স্টলে হামলা হয়েছে। নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিনের বই রাখার অভিযোগে স্টলটিতে হামলা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় তাদের রোষানলে পড়েন প্রকাশনা সংস্থাটির কর্ণধর কবি ও কণ্ঠশিল্পী শতাব্দী ভব।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এর আগে শতাব্দী ভবকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয় এবং সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয় স্টলটি। এরপর ভবকে আটক করে নিয়ে যায় শাহবাগ থানা পুলিশ।

শতাব্দী ভবর সহধর্মিণী মেহরান সানজানা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গতকাল (রবিবার) রাত থেকে বিভিন্ন পেজ ও অনলাইন মাধ্যম থেকে প্রচার করা হয় ‘সব্যসাচী’র স্টলে তসলিমা নাসরিনের বই পাওয়া যাচ্ছে। এরপর পেজ থেকে তারা আমাদের হুমকিও দেয়। বিষয়টি আমি সকালে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষকে জানাই। আর তসলিমা নাসরিনের বইগুলোও সরিয়ে নিই। এ বিষয়ে বাংলা একাডেমি ও মেলার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথেও কথা বলি।

তিনি আরও বলেন, সোমবার বিকালে দলবেঁধে কয়েকজন যুবক আমাদের স্টলে এসে সকল বই ছুঁড়ে ফেলে তছনছ করে। এ সময় তারা ‘নারায়ে তাকবির’ বলে স্লোগান দিলে আমার স্বামী ‘জয় বাংলা’ বলে স্লোগান দেয়। পরে মেলার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ এসে ভবকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়।

সূত্র: protidinerbangladesh

বইমেলায় স্টলে হামলা, সব্যসাচীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

বইমেলার সব্যসাচী প্রকাশনীর স্টলে নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিনের বই রাখার অভিযোগে এক দল বিক্ষুব্ধ লোকের রোষানলে পড়েন মো. মিরাজ নামে এক লেখক। পুলিশের সাহায্যে মেলা থেকে বের করে নেওয়া হয় তাকে। এ সময় প্রকাশ্যে মিরাজকে ক্ষমা চাইতে হয়। এর পরপরই সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয় স্টলটি। বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানায়, সাময়িক বন্ধের পর স্টলটি খুলে দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টাস্কফোর্সের সভার পর নেওয়া হবে। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তসলিমা নাসরিনের বই বিক্রি করা দেখে সব্যসাচীর স্টলে ভিড় করে একদল লোক। লেখক মিরাজ তখন সেখানেই বসে ছিলেন। তসলিমা নাসরিনের বই কেন বিক্রি করছেন প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মিরাজ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে উত্তেজিত লোকজন তাকে মারতে যায়। এ সময় তাকে কানে ধরে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও ওঠে। এক পর্যায়ে এই লেখক হাতজোড় করেন এবং পুলিশ তাকে নিয়ে চলে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ইমরান নাজির বলেন, ‘লোকজন ওই লেখককে মারতে গেলে পুলিশ বাধা দেয় এবং তাকে নিয়ে বই মেলার বাইরে চলে যায়। এ সময় মিরাজ উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান। শিক্ষার্থীদের উত্তেজনার মুখে বই মেলার সব্যসাচী স্টলটি বন্ধ করে দেয় পুলিশ।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

বই ছাপানোর আগে একাডেমি বা পুলিশকে পড়তে দেওয়া হাস্যকর: সংস্কৃতি উপদেষ্টা
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

অমর একুশে বইমেলায় বই প্রকাশের আগে পাণ্ডুলিপি যাচাই প্রসঙ্গে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, ‘গণমাধ্যমে একটা সংবাদ ভুল–বোঝাবুঝি সৃষ্টি করছে। পুলিশের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, বই ছাপানোর আগে বাংলা একাডেমি বা পুলিশকে পড়তে দেওয়া উচিত। এটা অবিশ্বাস্য, এটা হাস্যকর। আমাদের সরকারের নীতিমালার আশপাশেই নেই।’

সূত্র: প্রথম আলো

মেলায় প্রকাশের আগে বইয়ের পাণ্ডুলিপি যাচাই চায় পুলিশ
৩১ জানুয়ারি ২০২৫

“আশা করি, আগামী বছর থেকে এটা আমরা করাইতে পারব বাংলা একাডেমিকে দিয়ে যে- বই প্রকাশনার আগে পাণ্ডুলিপি তাদেরকে দিতে হবে,” বলেন নজরুল ইসলাম।

‘অস্থিতিশীল’ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে- এমন কন্টেন্ট ঠেকাতে মেলায় বই প্রকাশের আগেই পাণ্ডুলিপি যাচাইয়ে বাংলা একাডেমিকে অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। ডিএমপি চাইছে, ২০২৬ সালের একুশে বইমেলা থেকে এই ব্যবস্থা চালু করা হোক।

শুক্রবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবারের বইমেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গিয়ে নিজেদের ভাবনার কথা তুলে ধরেন ডিএমপির কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ও অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন নজরুল ইসলাম।

সূত্র: bangla.bdnews24.

সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল হচ্ছে: আসিফ নজরুল
০৩ অক্টোবর ২০২৪, প্রথম আলো

সাইবার নিরাপত্তা আইন অবশ্যই বাতিল হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর প্রস্তাবিত খসড়া সংশোধনী বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে আইন উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

জামিনে মুক্ত আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসিম উদ্দিন রাহমানী
২৬ আগস্ট, ২০২৪

মুফতি জসিম উদ্দিন রহমানী, যিনি রাহমানী নামে পরিচিত, তিনি একজন বাংলাদেশি ইসলামি পণ্ডিত, খতিব, ইমাম এবং বক্তা। তিনি ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার হন এবং ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান। তিনি আল কায়েদার কথিত সহযোগী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আধ্যাত্মিক প্রধান হিসেবেও অভিযুক্ত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুফতি জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় গতকাল রোববার ২৫ আগস্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পান তিনি। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে করা আরও তিনটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এছাড়া গত আট মাসে যারা জামিন পেয়েছেন তার মধ্যে হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি রয়েছেন যেটি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা গেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে। ২০১৬ সালে হত্যাকাণ্ডের শিকার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ফ ম রেজাউল করীম সিদ্দিকীর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয় আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বিচারাধীন দুজন আসামি জামিনে মুক্তির বিষয়টি তারা জেনেছেন।

বিবিসি বাংলা ওই আসামিদের জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

কারা সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত বছর জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ৫টি জেল থেকে ২ হাজার দুইশ বন্দি পালিয়েছিল এর মধ্যে এখনও সাতশত জন পলাতক রয়েছে। পলাতকদের মধ্যে ৬ জন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য ছিল বলে জানান কারা মহাপরিদর্শক।

সূত্র: প্রথম আলো, বিবিসি

আওয়ামী লীগের আমলঃ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে নাস্তিক ব্লগারের ফাঁসি দাবী করে ফেসবুক পোস্ট

৮ই মার্চ ২০২২

ফেসবুকে এক ব্লগারের ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেন- এই নাস্তিকের ফাঁসি চাই, এই পোস্ট সবাই শেয়ার করুন। তার সহমত ভাইদের কমেন্টের উত্তরে বলছে- দেশে ধরে আইনা ওর বিচার করার পদক্ষেপ নিতে হবে। সম্ভবত সে আসাদ নূরের কথা বলছে।

সূত্র: bdnews24.com/

যারা দেশের ইমেজ নষ্ট করবেন, তাদের জামিনের বিষয় বিবেচনা করব না: প্রধান বিচারপতি

৭ই মার্চ ২০২১

তিনি আরও বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, দেশের ইমেজ সবার আগে। সাবধান করে বলছি, যারা দেশের ইমেজ নষ্ট করবেন, তাদের জামিনের বিষয়ে আমরা বিবেচনা করব না

সূত্র: ডেইলি স্টার

মুশতাকের গা থেকে প্রস্রাবের তীব্র গন্ধ আসছিলো। কিছুদিন আগে তাকেও তোলা হয়েছিল, এবং প্রচুর মারধরও করা হয়েছিল। তার যৌনাঙ্গে ইলেক্ট্রিক শক দেয়া হয়েছিল। মেঝেতে সংবাদপত্র ছিল এবং আমি মুশতাককে নিজেকে পরিষ্কার করার জন্য এটি ব্যবহার করতে বলেছিলাম। তিনি তার অন্তর্বাসটি খুলে ফেলে দিলেন – আমি দেখেছি এটিতে মলমূত্র রয়েছে। তিনি অত্যাচারের সময় নিজের প্যান্টে মলত্যাগ করেছিলেন, তিনি আমাকে বলছিলেন, -কিশোর ।(দ্য ডেইলি স্টার) কেউ পুরো সাক্ষাৎকার পড়তে চাইলে ডেইলিস্টারের টা পড়বেন কারণ প্রথম আলো অনেক কিছু বাদ দিয়ে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে।। লিংক- এখানে

প্রধানমন্ত্রী: কারাগারে কেউ অসুস্থ হয়ে মারা গেলে কী করার আছে?

আইনের অপপ্রয়োগ হচ্ছে কিনা, এটা হলো দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার: প্রধানমন্ত্রী

২৭ ফেব্রুয়ারি , ২০২১

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইন তার আপন গতিতে চলে। আইনের অপপ্রয়োগ হচ্ছে কিনা, এটা হলো দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। কোনটা আপনার কাছে অপপ্রয়োগ আর কোনটা অপপ্রয়োগ না, এটাও একটা আপেক্ষিক ব্যাপার। আমি মনে করি, আইন তার নিজ গতিতে চলছে এবং চলবে। যদি কেউ অপরাধ না করে, তার বিচারে শাস্তি হবে না। আদৌ অপরাধ হচ্ছে কিনা, বা এমন কোনো কাজ করছে কিনা, দেশের ক্ষতি হচ্ছে বা জনগণের ক্ষতি হচ্ছে, সে কাজ থেকে বিরত রাখা উচিত।

তিনি আরো বলেন, সমালোচনা যারা করছে, তারা সবকিছু কি অনুধাবন করছে? আজকের এই দিনে আমি অন্য কিছু বলতে চাই না। শুধু এটুকুই বলবো, কারো মৃত্যুই কাম্য নয়। তবে সেটাকে উদ্দেশ্য করে অশান্তিও কাম্য নয়। অসুস্থ হয়ে মারা গেলে কী করার আছে?

সূত্র: প্রথম আলো, কালেরকণ্ঠ

লেখক মুশতাক আগেও অন্যের বিশ্বাসের প্রতি আঘাত করেছিলেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (প্রথম আলো)

অন্যের বিশ্বাসের প্রতি আঘাত করে লিখতেন মুশতাক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২৬ ফেব্রুয়ারি , ২০২১

গাজীপুরের কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুবরণকারী লেখক মুশতাক আহমেদ অন্যের বিশ্বাসের প্রতি আঘাত করে লিখতেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটা মামলা ছিল।

কারাগারের ভেতর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান বলে জেনেছি। তার মৃত্যুতে কারা কর্তৃপক্ষের কোনও গাফিলতি আছে কি-না তদন্ত করা হবে। শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগরের ষোলশহর ২ নম্বর গেট মোড়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এসব কথা বলেন।

সূত্র: বাংলানিউজ২৪

ডিজিটাল আইনে প্রথম শহীদ মুশতাক আহমেদ

২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১

লেখক মুশতাক আহমেদ কারাগারেই মারা গেলেন। সরকার বিরোধী পোস্টের জন্য (কার্টুন ও স্ট্যাটাস) মুশতাক আহমেদের সাথে কার্টুনিস্ট কিশোরকেও গ্রেফতার করা হয়। কিশোর প্রায় ১০ মাস ধরে কারাগারে আছেন। রিমান্ডে তাদের উপর নির্যাতন করা হয়। জেলে মারা যাওয়ার আগের দিনও তার মুশতাক আহমেদের জামিন বাতিল করা হয়। সরকার প্রত্যক্ষভাবে মুশতাককে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ

২৭ অগাস্ট ২০২০

কওমী মাদ্রাসায় শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এ সম্পর্কিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার উপন্যাসটির প্রকাশক বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন তাঁরা।

সূত্র: প্রথম আলো

বই মেলায় দুটি বই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে হাই কোর্ট

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ধর্মীয় ও ব্যক্তি স্বাধীনতায় ‘আঘাতের’ অভিযোগে দুটি বইয়ের প্রকাশ,বিক্রি, বিতরণ ও বিপণন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে হাই কোর্ট। বই দুটির নাম ‘দিয়া আরেফিন’ এবং ‘দিয়া আরেফিন’র নানীর বাণী’, লেখক দিয়ার্ষি আরাগ নামের এক ব্যক্তি যিনি মূলত ব্লগ ও ফেইসবুকে লেখালেখি করেন। বই দুটি প্রকাশ করা হয়েছে সৃষ্টিঘর প্রকাশনা থেকে।

আবারও বাংলাদেশ থেকে ইস্টিশন ব্লগে প্রবেশ বন্ধ (ব্লক)
২ অগাস্ট, ২০১৯

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে বিটিআরসি ইস্টিশন ব্লগে বাংলাদেশ থেকে প্রবেশ বন্ধ (ব্লক) করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ইস্টিশন ব্লগ ইস্টিশন ডট কমের বদলে  http://istishon.blog নামে নতুনকে আত্মপ্রকাশ করে ব্লগ প্রকাশ করে আসছিল।

পাস হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল, ২০১৮
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা বাতিল করে সংসদে পাস হয়েছে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল। বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সংসদে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন এবং এটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এর আগে বিলের উপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করা হয়। গত ২৯ জানুয়ারি ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এরপর গত ৯ এপ্রিল তা সংসদে উত্থাপন করেন মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।

২৮ ধারায় ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য শাস্তি কমানো হয়েছে। সংসদে উত্থাপিত বিলে ৭ বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান ছিল। পাস হওয়া জেল কমিয়ে ৫ বছর করা হয়েছে। বিলের ২১ ধারায় মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণার দণ্ডের বিধানের অংশে সংসদীয় কমিটির মতানুসারে ‘জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকা’ যুক্ত করা হয়েছে। এখানে শাস্তিও কমানো হয়েছে। আগে ১৪ বছরে জেল বা এক কোটি টাকা কিংবা উভয়দণ্ডের বিধান ছিল। কারাদণ্ড এখন ১০ বছরের করার বিধান রয়েছে।

সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন

আল্লাহকে বিশ্বাস করে না এমন মুক্তমনা চাই না’-প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ
১৫ মার্চ, ২০১৮

ইসলাম ছাড়া শান্তির পথ নেই। একমাত্র শান্তির পথ ইসলাম। এত অত্যাচার আল্লাহ সহ্য করবেন না। মুক্তমনা মানে কি যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে না? এমন মুক্তমনা মানুষ চাই না। আমরা চাই সবাই আল্লাহ বিশ্বাস করুক। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিশনের জাতীয় ইসলামী মহাজোটের সভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ এ কথা বলেন।

সূত্র: যমুনা টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Post

  • Hello world!

    Welcome to WordPress. This is your first post. Edit or delete it, then start writing!

    Read More

  • একুশের মেলা, না-আসা বই, আর লেখকের নীরব দীর্ঘশ্বাস একুশ কোনো সাধারণ তারিখ নয়। একুশ মানে ভাষা, আত্মপরিচয়, মাথা নত না…

    Read More

  • কর্ণেল তাহের ও তার পৃথিবী সমান স্বপ্ন!

    কর্নেল তাহের বাংলাদেশের রাজনীতির ‘ব্ল্যাক বক্স’! শাহাদুজ্জামান তাঁর ‘ক্রাচের কর্নেল’ উপন্যাসে তাঁকে বলেছেন এক আশ্চর্য নামে। বাংলাদেশের রাজনীতির ‘ব্ল্যাক বক্স’।…

    Read More