জাসদ নেতাদের এখন কী অবস্থা?
জাসদ (ইনু) এর সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বর্তমানে জেলে আছেন। জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বয়স এখন প্রায় ৮০। তিনি জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি। বর্তমানে বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছেন।
অন্যদিকে, বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ নুরুল আম্বিয়া বাংলাদেশ জাসদের সভাপতির দায়িত্বে আছেন। ৭২ সালের ৩১ অক্টোবর যখন জাসদ গঠন হয় তখন তিনি ছাত্রলীগ (সিরাজপন্থী) অংশের সভাপতি ছিলেন। পরে মূল দলে অন্তর্ভুক্ত হন।
আ স ম আব্দুর রব ও শরীফ নূরুল আম্বিয়া কী বলছেন?
জাসদ কেন এত ব্র্যাকেট বন্দি দল? কেন দলটি এতবার খণ্ডিত হয়েছে– এমন লিখিত প্রশ্ন ছিল আ স ম আব্দুর রবের কাছে। এর উত্তরে তিনি বলেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল গঠনের পরিকল্পনাকারী ছিলেন সিরাজুল আলম খান। দলের নামকরণও তিনি এককভাবে করেছেন। দাদাভাই ছিলেন আমাদের রাজনৈতিক, তাত্ত্বিক ও নৈতিক অভিভাবক। আমরা ছিলাম সদ্য মুক্তিযুদ্ধ সমাপ্তকারী সৈনিক। চেতনা ছিল স্বাধীনতা ও সমাজতন্ত্রের প্রেরণায় উদ্দীপ্ত। একটি রাষ্ট্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অসংখ্য দ্বন্দ্ব থাকে। বাস্তবতা উপলব্ধি করে আন্দোলন করা, সংগঠনের বিকাশ ঘটানো, দ্বন্দ্ব নির্ণয় করা, রণনীতি নির্ধারণ ও কৌশল গ্রহণ করা এবং তা বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের পক্ষে সদ্ব্যবহার করার প্রশ্নে দলে অনেক মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ব্যর্থ হয়েছি দলকে অখণ্ড রাখতে। নিশ্চয়ই ভুলভ্রান্তি হয়েছে। এ জন্য আমার সহকর্মী কাউকে অভিযুক্ত করতে চাই না, কিন্তু আমি ক্রমাগত অভিযুক্ত হয়েছি। যাঁরা এই রাজনীতির জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের তুলনায় আমার ভূমিকা খুবই গৌণ। অথচ এই আমরাই বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জেল-জুলুম-মৃত্যুকে উপেক্ষা করে প্রচণ্ড সাহস আর ঝুঁকি নিয়ে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘আমি ১৯৭৪ সালের ১৭ মার্চ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় পার্টির অনেক গোপন বা প্রকাশ্যে কর্মকাণ্ডে আমার জড়িত থাকার সুযোগ হয়নি, অনেক কিছুই ঘটেছে জানার বাইরে।’
মূলত, জলিল–রব ৮ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে মুক্তি পান। ২৩ নভেম্বর আবার গ্রেপ্তার হন। পুন:অভ্যুত্থান চেষ্টায় তাদের ২ জনকেও কর্নেল (অব.) তাহেরের সঙ্গে মামলা দেওয়া হয়।
আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘দ্বন্দ্ব, ভিন্নতা, পার্থক্য ইত্যাদি কারণে একদিকে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অন্যদিকে মেহনতি মানুষের মুক্তির লড়াই দূরবর্তী হয়েছে। এটা আমাদের বড় ট্র্যাজেডি।’
এদিকে, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘লক্ষ্য এখনও অর্জন হয় নাই। অতীতে যারা ক্ষমতায় গেছেন, তারা লুটপাট করেছেন। আমরা তাদেরকে মোকাবিলা করতে পারি নাই। সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন করে অনেক নির্যাতন ও জেল–জুলুম সহ্য করেছি। তারপরও আপোশ করি নাই।’
তাঁর মতে, ওই সময় গণবাহিনী গঠন যুক্তিযুক্ত ছিল। নিজেদের আত্মরক্ষায় এটা ছাড়া বিকল্প ছিল না। একদিকে রক্ষীবাহিনী, আওয়ামী লীগ, যুব লীগ, ছাত্র লীগ ও শ্রমিক লীগ এবং পিকিং পন্থী পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির হামলা থেকে বাঁচতে আত্মরক্ষায় গণবাহিনী গঠন করা হয়।
শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘ভুল ছাড়া কোনো রাজনীতি হয় না। সব সিদ্ধান্তের মধ্যে কিছু ভুল ত্রুটি থাকে। সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পরিপক্কতার ঘাটতি থাকায় দলে অত্যধিক ভাঙন হয়েছে। দলের নেতাদের অভিজ্ঞতারও ঘাটতি ছিল। নেতাদের বেশির ভাগেরই বয়স কম ছিল। তাই তারা বেশি ভুল করেছেন।’
