ডিবি হারুন একদিনে হারুন হয়ে উঠে নাই..

ইংল্যান্ডে এখন পর্যন্ত আমি তিনবার পুলিশের সাথে ফেইস টু ফেইস হয়েছি। তিনবারই ভিন্ন তিনটি কারণে।

এইতো গত রমজানেও হঠ্যাৎ একদিন আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের বাইরে সিভিল ড্রেসে আমার সামনে সেকেন্ডের ভেতরই কোথা থেকে দুজন অফিসার এসে আমাকে মোটামুটি আটকালো। আমি দাঁড়িয়ে পড়লাম। আমাকে পাশে নিয়ে পকেট থেকে ব্যজ বের করে দেখিয়ে বললো তারা সাদা পোশাকধারী আন্ডারকাভার এজেন্ট।

প্রায় ২০ মিনিটের মতো তাদের সাথে কথাবার্তা হলো। জরুরি কিছুই না। পকেটে এমন কিছু আছে কিনা যা থাকা উচিত না, স্টেশনে ডুকতে যেয়েও কেন ঢুকলাম না, কিছু নিয়ে উদ্বিগ্ন কি না; এইসব প্রশ্নই।

একজন অফিসার আইডি চ্যাক থেকে শুরু করে হাতে গোনা কিছু প্রশ্ন করলেন। অপরজন জানতে চাইলেন কোথায় যাচ্ছি, কেন যাচ্ছি। রমজান কি শুরু হয়ে গেছে, দিনে কিছু খাওয়া যায় কিনা। কতদিন রোজা রাখা লাগবে। ইফতারে কি খাবো, কষ্ট হয় কিনা- এইসব। একটু পরেই অন্যজন বললেন ‘ইউ ক্যান মেইক ইউর ওয়ে, সরি ফর দ্যা ট্রাবল। ইটস জাস্ট আ রুটিন ওয়ার্ক।’

আমি কিছুই মনে করলাম না। এটাই হওয়া স্বাভাবিক। আপনি কিছু করেন নি, আপনাকে কোর্টে তুললেও তো ভয়ের কিছু নাই। এবং ইংল্যান্ড বা ইউরোপের মোটামুটি দেশগুলোতে এমনই কালচার।

পুলিশের সাথে আপনি গল্প করবেন, প্রশ্ন থাকলে প্রশ্ন করবেন। আপনার উপর চটবে না; আপনাকে অহেতুক বিরক্ত কিংবা ভয়ভীতিও দেখাবে না।

আজকে বাংলাদেশে পুলিশ কেন্দ্রিক দুইটি ঘটনা ঘটেছে। দুইটাতেই পুলিশ অহেতুক, অন্যায্য ও অবাঞ্চিত ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। আমার হঠ্যাৎ ডিবি হারুনের কথা মনে পড়লো।

ডিবি হারুন একদিনে হারুন হয়ে উঠে নাই।

জয়নাল আবেদিন ফারুকরে পিঠাইয়া হাত ভেঙ্গে দিতে হইছে তার। ছাত্রদল, যুবদল বিএনপির বহু নেতাকর্মীর জীবন শেষ করে দিতে পারছে বলেই হারুন ডিবি প্রধান হইতে পারছে।

বিষয়টা একদম পানির মতো সোজা। পুলিশ বলে বাংলাদেশে কিছু আগেও ছিলোনা আজও নাই, আগামীতেও থাকবেনা।

কারণ, এরা হচ্ছে পোষাকধারী চামার। কুকুর যেমন তার মনীবের প্রতি আনুগত্য দেখায়- পুলিশকেও সময়ে সময়ে নতুন সকল সরকারের প্রতি আনুগত্য দেখায়। এবং তারা দেখাতে বাধ্য। ডিবি হারুন শুধুমাত্র আনুগত্য প্রদর্শন করতে গিয়ে কত মানুষকে তিলে তিলে শেষ করেছে, কত মায়ের বুক খালি করেছে কত জুলুম করেছে নিরপরাধ মানুষকে- তা শুধুমাত্র আল্লাহ ভালো বলতে পারবেন।

ডিবি হারুনের শূন্যস্থান পরিবর্তন করতে দেশে এখন ডিসি মাসুদের আবির্ভাব ঘটেছে।

ঠিক কাকে খুশি করতে, কার প্রতি অনুগত হতে এবং কার দয়ার পাত্র হয়ে নিজেকে ডিবি হারুনের পথে পরিচালিত করছেন, তা তিনি নিজে ভালো বলতে পারবেন।

তবে একটা বিষয় মোটামুটি পরিষ্কার।

যুগে যুগে এই বাংলায় যত-শত ডিবি হারুন আর ডিসি মাসুদ আসবে, তারা কেবলই তাদের প্রভুর অনুগ্রহ লাভের জন্যই কাজ করবে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ সিভিল রাইট সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা রাখেন না। রাখলে ডিসি মাসুদের আজকের অযাচিত এই কর্মকাণ্ড আমাদের দেখতে হতো না।

বাংলাদেশ দীর্ঘজীবি হোক…

জনপ্রিয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *